প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দলের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান এবং 'করব কাজ, গড়ব দেশ' প্রত্যয় নিয়ে ঘোষিত এই ইশতেহারে ইনসাফ-ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক ইশতেহার ঘোষণা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পেছনে ছিল জনগণের অংশগ্রহণ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই যাত্রা অত্যন্ত গৌরবের ও ত্যাগের:
১৯০০-১৯৪৭ (ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল): ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই অঞ্চলে আধুনিক রাজনীতির যাত্রা শুরু। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭-এ দেশভাগ হলেও বাঙালির স্বাধিকারের লড়াই থেমে থাকেনি।
১৯৫২-১৯৭১ (সংগ্রাম ও মুক্তি): ১৯৪৮-এ শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ ১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১৯৬৬-র ৬ দফা এবং ১৯৭১-এর ৭ মার্চের সেই অমর ভাষণ—"এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—বাঙালিকে স্বাধীন রাষ্ট্র এনে দেয়।
১৯৭৫-২০২৪ (গণতন্ত্র ও জুলাই বিপ্লব): ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও ১৯৯০ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছরের 'ফ্যাসিবাদী' শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক নতুন মোহনায় নিয়ে এসেছে।
২০২৬ (ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন): ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সাল জুড়ে চলা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের সুফল হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনকে 'নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী' হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির এবারের ইশতেহার ৫টি প্রধান অধ্যায়ে এবং ৫১টি দফায় বিভক্ত।
১. রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার: ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে বলা হয়েছে, "ভোটই হবে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস।" সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। শহীদ জিয়ার ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার সমন্বয়ে এই সংস্কার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ২. মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান: মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নামে রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ৩. জাতি গঠন ও সুশাসন: "ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি"—এই দর্শনে একটি সুসংহত জাতি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমনে 'জিরো টলারেন্স' এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান। ৪. সাংবিধানিক সংস্কার ও বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, বিচারপতি নিয়োগ আইন এবং 'বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪' বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ৫. স্থানীয় সরকার ও অর্থনীতি: স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ৯টি বিশেষ জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন:
ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক পরিবারের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকার সুরক্ষা সহায়তা।
কৃষক কার্ড: কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ ঋণ ও কৃষি বীমা।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন নিয়োগ।
মিড-ডে মিল: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার।
কর্মসংস্থান: তরুণদের জন্য টেকনিক্যাল ট্রেনিং ও মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ।
নদী খনন ও বৃক্ষরোপণ: ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও ১০ হাজার কিমি নদী খনন।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী: ইমাম, মোয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মের নেতাদের জন্য সম্মানী প্রদান।
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই জাপানের পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং জামায়াত আমিরের পাচার করা অর্থ ফেরতের ঘোষণা নির্বাচনি ময়দানকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। চরমোনাই পীর হাতপাখাকে 'ইনসাফের প্রতীক' হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে বিএনপির এই নতুন ইশতেহার এবং উত্তরবঙ্গ সফর দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: বাসস (BSS), বণিক বার্তা, এখন টিভি, আল জাজিরা এবং জাতীয় রাজনৈতিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |