| বঙ্গাব্দ

২০২৬ নির্বাচন ও তারেক রহমানের বগুড়া সফর: ১৯০০-২০২৬ বাংলাদেশের রাজনীতির পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-01-2026 ইং
  • 1356242 বার পঠিত
২০২৬ নির্বাচন ও তারেক রহমানের বগুড়া সফর: ১৯০০-২০২৬ বাংলাদেশের রাজনীতির পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ নির্বাচন ও তারেক রহমানের বগুড়া সফর

বাংলাদেশের ক্ষমতা বদলের লড়াই ও ভোট উৎসবের চূড়ান্ত প্রহর

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির মহাকাব্যে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৬-এর নির্বাচনী ডামাডোল—প্রতিটি অধ্যায়ই নতুন নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। ১৯০৫-এর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন পর্যন্ত এ দেশের মানুষ বারবার রাজপথে নেমেছে গণতন্ত্রের প্রয়োজনে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন তুঙ্গে উঠেছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা। একদিকে যখন ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমান ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করছেন, অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট দিচ্ছে 'ঐক্যের সরকার' গঠনের বার্তা।

ইতিহাসের গতিপথ: ১৯০০ থেকে ২০২৪

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত আন্দোলন আর ত্যাগের ফসল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল এ দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে অর্জিত হয় এক নতুন বাংলাদেশ। সেই পরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে দীর্ঘ দেড় দশক পর ব্যালটে নেই আওয়ামী লীগের 'নৌকা' প্রতীক।

বগুড়ায় তারেক রহমান: 'ধানের শীষই মূল ভরসা'

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) নির্বাচনী সফরের তৃতীয় দিনে বগুড়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংগঠনের শক্তি ও জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়েছেন। বগুড়া শহরতলির ছিলিমপুরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "বগুড়া বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। এ কারণে বগুড়ার নির্বাচনী দায়িত্ব আমি নিশ্চিন্ত মনে সহকর্মীদের হাতেই ছেড়ে দিতে চাই।" তিনি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের এই সফর এবং বগুড়া-৭ ও বগুড়া-৫ আসনের পথসভাগুলোতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি একটি বড় ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে।

জাইমা রহমান ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব

তারেক রহমানের পাশাপাশি এবার বিএনপির প্রচারণায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাজনীতিতে কোনো পদ না থাকলেও তারুণ্য আর আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে তিনি 'জেন-জি' বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাইমা রহমানের উপস্থিতি বিএনপির জন্য তরুণ ও নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করার একটি বড় কৌশল।

১১ দলীয় জোট ও ঐক্যের সরকারের ডাক

নির্বাচনী মাঠের আরেক বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লার সমাবেশে ঘোষণা করেছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে তারা পরাজিতদের নিয়েও সরকার গঠন করবেন। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ দেশের রাজনীতিতে এমন 'ঐক্যের সরকার' গঠনের ঘোষণা রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মাঠের লড়াইয়ে নুর ও মাহফুজ আলমের অবস্থান

পটুয়াখালী-০৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর যখন উন্নয়ন ইশতেহার নিয়ে মাঠে ব্যস্ত, তখন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম পুরোধা মাহফুজ আলম এনসিপি-জামায়াত জোট নিয়ে নিজের সংশয় প্রকাশ করে আলাদা পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন, যা নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা ও আস্থাহীনতারও জন্ম দিয়েছে।

২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: নৌকাহীন নির্বাচন ও আগামীর ভাবনা

আল-জাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে ছাড়া অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন দলটির সমর্থকদের মাঝে এক ধরনের দোটানা সৃষ্টি করেছে। গোপালগঞ্জের মতো আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অনেকে ভোটবর্জন করলেও, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পুনরুত্থান এবং জাইমা রহমানের উপস্থিতি রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ১৯০০ সালে যে লড়াই শুরু হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে, ২০২৬ সালে এসে তা রূপান্তরিত হয়েছে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের লড়াইয়ে।


সূত্র: তারেক রহমানের বগুড়া সফর ও পথসভার বক্তব্য, ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী ঘোষণা, মাহফুজ আলমের সাক্ষাৎকার, আল-জাজিরা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং জাতীয় আর্কাইভ।

বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, সংকটকালে তরুণ নেতৃত্বই সবসময় হাল ধরেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর মাঠে ফেরা এবং জাইমা রহমানের মতো নতুন মুখদের অংশগ্রহণ বিএনপির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে ১১ দলীয় জোটের 'ঐক্যের সরকার' গঠনের প্রস্তাব এবং নুরুল হক নুরের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ প্রমাণ করে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফল বাংলাদেশের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ আর মিডিয়া ট্রায়ালের ঊর্ধ্বে উঠে নীতি ও আদর্শের রাজনীতিই হোক ২০২৬-এর কাম্য।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency