নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এ কে এম কামাল হোসেনের মেয়ে মারিয়া কামালের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, ‘দাঁড়িপাল্লা’ বা জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।
বিবৃতিতে জানানো হয়, আজ ২৮ জানুয়ারি বুধবার সকাল ৯টার দিকে মারিয়া কামালের নেতৃত্বে একটি নারী দল চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার ও দাওয়াতি কাজ করছিলেন। সাথে ছিলেন প্রার্থীর ছেলে মুহাম্মাদ তাহজিব ও জেলা যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ। প্রচারণা চলাকালে মো. সোহেল হাওলাদার ও আলাউদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ হয়ে প্রচারে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা প্রার্থীর ছেলে তাহজিব ও মাওলানা ফয়সালকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং মারিয়া কামালের ওপর শারীরিক আক্রমণ চালায়। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে মারিয়া কামাল দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেও এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের পাঠানো এক বিবৃতিতে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বিশেষ করে ইসলাম নামধারী একটি সংগঠনের কর্মীদের পক্ষ থেকে একজন নারীর গায়ে হাত তোলা আমাদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।” তিনি জামায়াত নেতাদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনাদের কর্মীরা একজন নারীর গায়ে হাত তোলার শিক্ষা কোথা থেকে পায়?” অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য জামায়াতকেই দায়ী থাকতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
[Image: Protests by Islami Andolan Bangladesh activists in Bhola against attack on candidate's daughter Maria Kamal]
ভোলা-৪ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। ১৯০০ সালের গোড়ার দিকের কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক নির্বাচন পর্যন্ত ভোলার মানুষ সবসময় রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তবে এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের (জামায়াত সমর্থিত) সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের যে লড়াই, তা কেবল ব্যালট নয় বরং রাজপথের দখলে গিয়ে ঠেকেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত নির্বাচনী পরিবেশকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তার কথা বলা হলেও ভোলার চরফ্যাশনে প্রার্থীর মেয়ের ওপর হামলার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। ২০২৪-এর বিপ্লবের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন ও নিরাপদ রাজনীতি, কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যদিও এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জামায়াত কর্মীদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করায় বিষয়টি এখন আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সূত্র: ১. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ বিভাগ, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন জেলা প্রতিনিধি রিপোর্ট (ভোলা)। ৩. যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ ও নির্বাচনী বুলেটিন। ৪. গুগল নিউজ ও সোশ্যাল মিডিয়া এনালিটিক্স (চরফ্যাশন রাজনৈতিক পরিস্থিতি)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |