| বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১১ নির্বাচনে নাহিদ ইসলামের প্রচার: রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও ইসির পক্ষপাতিত্ব নিয়ে ক্ষোভ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-01-2026 ইং
  • 3850543 বার পঠিত
ঢাকা-১১ নির্বাচনে নাহিদ ইসলামের প্রচার: রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও ইসির পক্ষপাতিত্ব নিয়ে ক্ষোভ
ছবির ক্যাপশন: ঢাকা-১১ নির্বাচনে নাহিদ ইসলামের প্রচার


'সহাবস্থানের রাজনীতি হুমকির মুখে, দমনের চেষ্টা ফলপ্রসূ হবে না': মেরুল বাড্ডায় নাহিদ ইসলাম

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এরই মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর হামলা ও অসহিষ্ণুতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহাবস্থানের জায়গাটি এখন সংকুচিত হয়ে আসছে।

শান্তিনগরে হামলার তীব্র নিন্দা

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একটি পিঠা উৎসব চলাকালীন ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমরা তো আসলে আগের আমলের সেই পুরনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনে কেউ কারও শত্রু নয়, সবাই প্রতিদ্বন্দ্বী। এই সহিষ্ণুতা বজায় রাখাই গণতন্ত্রের মূল নির্যাস।

ইসি ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং কিছু গণমাধ্যম একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। তিনি বলেন, "সারা দেশে আমাদের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এমনকি আমাদের নারী কর্মীদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কেউ মনে করে গায়ের জোরে বা ভোট দখল করে জিতে আসবে, তবে তারা ভুলের স্বর্গে বাস করছে। ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত এ অঞ্চলের রাজনীতির মূল শক্তি ছিল ‘জনগণের সম্মতি’। তবে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বারবার এই গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা হোঁচট খেয়েছে। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হলেও পরবর্তী তিন দশকে দেশের রাজনীতিতে ‘দখলদারি’ ও ‘অন্যকে নির্মূল করার’ সংস্কৃতি গেঁড়ে বসেছিল।

২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বলা হচ্ছে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’, যার মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি মূলত সেই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বড় পরীক্ষা। নাহিদ ইসলামের মতে, ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত ধাপে এসে যদি আজও প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর ডিম নিক্ষেপ বা হামলা হয়, তবে তা ৫ আগস্টের শহীদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

নির্বাচনি পরিবেশ ও নিরাপত্তা শঙ্কা

ঢাকা-১১ আসনের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন আগে তাঁদের নির্বাচনি অফিসের পাশে গুলি চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষ বাধা না আসলেও পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, "প্রত্যক্ষ কোনো বাধা আসলে আমরা তা রাজপথে প্রতিহত করব। আমরা লড়াই করে এসেছি, লড়াই করেই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।"


সূত্র: সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণা বক্তব্য (মেরুল বাড্ডা, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬), এনসিপি মিডিয়া সেল, এবং হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ পিঠা উৎসবের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency