প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের বিকৃত ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে ৭টি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজীর আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস জুই এই মামলার আবেদন করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অভিযুক্ত ৭টি পেজ হলো— ফাইট অ্যাগেইনস্ট হিন্দুতভা (ব্যাকআপ), ফাইট অ্যাগেইনস্ট হিন্দুতভা-অফিশিয়াল, এফএএইচ এক্সক্লুসিভ, ওসমান চাই চাঁদ, এসবি বিল্লাল হাসানাত অনু, রিয়াশাত ফারহান হোসেন এবং হারুল হক।
আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ‘বট আইডি’ ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে জান্নাতুল ফেরদাউস জুই এবং তার পরিচিত তাওহীদা সুলতানার বিকৃত ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে। তাদের অনলাইন অ্যাক্টিভিজম থেকে সরিয়ে দিতে এবং সামাজিকভাবে হেয় করতে রাজনৈতিকভাবে ব্ল্যাকমেইল ও অশালীন হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুজব ও অপপ্রচারের ধরন বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় লিফলেট বা মুখপত্রের মাধ্যমে কুৎসা রটানো হতো। পরবর্তীতে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধেও পাকিস্তানি জান্তা ও তাদের দোসররা প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়াত।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতিতে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় কুৎসা রটনার প্রধান হাতিয়ার ছিল ছাপানো পোস্টার ও ব্যানার।
২০২৪-২০২৬ এর প্রযুক্তিগত যুদ্ধ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দেখা যাচ্ছে ‘সাইবার ওয়ারফেয়ার’। প্রযুক্তির চরম উন্নতির এই যুগে এখন এআই ব্যবহার করে সত্য-মিথ্যাকে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অপপ্রচার আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাদী জান্নাতুল ফেরদাউস জুই জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে তাদের লক্ষ্য করে ধর্মীয় উসকানিমূলক এবং অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই প্রযুক্তিগত আক্রমণ।
আইনজীবীরা মনে করছেন, ১৯০০ সালের সাধারণ অপরাধ থেকে ২০২৬ সালের জটিল সাইবার ক্রাইম—আইনি প্রক্রিয়ার এই রূপান্তর নির্দেশ করে যে, সামনের দিনগুলোতে রাষ্ট্রকে সাইবার সুরক্ষা ও এআই নিয়ন্ত্রক আইনে আরও কঠোর হতে হবে। এই মামলাটি বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতার বিচারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সূত্র: যুগান্তর, ঢাকা আদালত ও আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আর্কাইভ। বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ সংবাদ ডেস্ক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |