| বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের হুঁশিয়ারি: ‘পাক সেনাদের সহযোগীরা এখন ভোটের জন্য এসেছে’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-01-2026 ইং
  • 3849081 বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের হুঁশিয়ারি: ‘পাক সেনাদের সহযোগীরা এখন ভোটের জন্য এসেছে’
ছবির ক্যাপশন: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল: ‘পাক সেনাদের সহযোগীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়, এটিই হতে পারে আমার শেষ নির্বাচন’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঠাকুরগাঁও: "একাত্তর সালে বাংলাদেশের মানুষকে যারা নির্বিচারে হত্যা করেছিল এবং পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করেছিল, তারা আজ ভোটের জন্য আপনাদের দুয়ারে এসেছে। তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য কখনো ক্ষমা চায়নি। এই অবৈধ শক্তির হাতে দেশকে তুলে দেওয়া যায় না; তারা দেশের জন্য বা মানুষের জন্য নিরাপদ নয়।" রোববার (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদরের গড়েয়া ইউনিয়নে একটি ইসকন মন্দিরের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সনাতন ধর্মসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিভাজন নয়, পরিচয় হোক ‘বাংলাদেশি’

ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "ধর্মের কারণে মানুষে মানুষে বিভাজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সবাই আগে বাংলাদেশি। এখানে সংখ্যায় বড় বা ছোট—এই বিভাজনের কোনো জায়গা নেই।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরও বাংলাদেশে সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ গড়তে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে, কিন্তু সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

‘মানবতাই বড় ধর্ম’

নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদর্শ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "আমি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তবে আমার ধর্ম ও পারিবারিক শিক্ষা আমাকে শিখিয়েছে সব ধর্মের মানুষকে সম্মান করতে। মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। এই বাংলাদেশ সবার, তাই আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।"

১৯০০ থেকে ২০২৬: ঠাকুরগাঁওয়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

ঐতিহাসিকভাবেই ঠাকুরগাঁও ও উত্তরের এই জনপদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২ ও ১৯৭১—সবখানেই ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়েছে। ১৯০০ সালের সেই গ্রামীণ বাংলার ভ্রাতৃত্ববোধ আজ ২০২৬ সালের নির্বাচনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে নতুনভাবে প্রাণ পেল। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইকে তিনি তাঁর জীবনের শেষ লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জীবনের ‘শেষ নির্বাচন’ ও দোয়া প্রার্থনা

বক্তব্যের একপর্যায়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "এবারের নির্বাচন হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আপনাদের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাই।" তিনি ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে এমন কারো হাতে তুলে দেওয়া যাবে না যারা এ দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা এবং ইসকন ভক্তরা বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন।


তথ্যসূত্র ও ক্রেডিট:

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency