| বঙ্গাব্দ

শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট ও ১ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 3467189 বার পঠিত
শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট ও ১ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: শহীদ ওসমান হাদি

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট ও ১ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে সরকার

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র মরহুম শরীফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানীর লালমাটিয়ায় একটি সুসজ্জিত ফ্ল্যাট কেনা ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য ১ কোটি টাকা ‘বিশেষ অনুদান’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এই অর্থ বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে।

অনুদানের বিবরণ ও শর্তাবলি

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর লালমাটিয়ার সরকারি দোয়েল টাওয়ারে ১২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ওসমান হাদির পরিবারের জন্য কেনা হবে। এই অর্থ গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের ‘আবাসিক ভবন’ খাতের চলতি অর্থবছরের ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে ব্যয় করা হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে—ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগে ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

হাদির শাহাদাত ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থেকে আলোচনায় আসেন শরীফ ওসমান বিন হাদি। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত আততায়ীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন, "শহীদ হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নজির বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছিল তৎকালীন সরকার।

তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ হিসেবে দেখছেন। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এ দেশের সাহসী সন্তানরা বারবার প্রাণ দিলেও বর্তমান সরকারের দ্রুত এই আর্থিক সহায়তা ও আবাসন নিশ্চিত করার পদক্ষেপকে একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে।

বিশ্লেষণ

শরীফ ওসমান হাদির পরিবারকে এই অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ঢাকা-৮ আসনের জনপ্রিয় এই নেতার শূন্যতা পূরণ করা অসম্ভব হলেও, তাঁর পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের একটি বড় অর্জন। তবে সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, কেবল অনুদান নয়, হাদির প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।


সূত্র: যুগান্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রেস রিলিজ, এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর সরকারি গেজেট।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency