প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের আইকন হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নির্বাচনী হলফনামা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। ভোলা-১ আসনের এই প্রার্থীকে নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও তার দাখিলকৃত হলফনামা বলছে এক ভিন্ন কথা। দেশজুড়ে আলোচিত এই রাজনীতিবিদের নিজের কেনা কোনো বাড়ি বা জমি নেই। তিনি মূলত পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার এবং পেশায় একজন আইনজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বার্ষিক আয় ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা। এর মধ্যে সিংহভাগই আসে তার আইন পেশা থেকে (৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৫ টাকা)। বাকি আয় আসে ব্যবসা থেকে। বিপরীতে তার বার্ষিক ব্যয় ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৬ টাকা।
ব্যারিস্টার পার্থের নগদ টাকার পরিমাণ ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৬৫ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৯ টাকা। তার ১০০ ভরি স্বর্ণ থাকলেও স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬০ ভরি। মজার বিষয় হলো, রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা এবং প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার নিজের নামে কোনো সঞ্চয়পত্র বা কেনা জমি নেই। পৈতৃকভাবে পাওয়া ৪ দশমিক ৪৩ একর অকৃষি জমির তিন ভাগের এক ভাগের মালিক তিনি। এছাড়া তার একটি এনপিবি রিভলবার ও একটি ২২ বোর রাইফেল রয়েছে। তার মালিকানাধীন 'আন্দালিব রহমান ফার্ম অ্যান্ড ফিশারিজ' এবং 'ব্রিটিশ স্কুল অব ল' এর ব্যাংক স্থিতিও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পরিক্রমা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নেতৃত্বের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ শাসনামলে রাজনীতি ছিল মূলত বনেদি ও শিক্ষিত শ্রেণির হাতে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের গঠন এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের সময়কাল পর্যন্ত নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পদের চেয়ে সামাজিক মর্যাদাই ছিল মুখ্য।
১৯৫২ - ১৯৭১: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতারা ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তখন রাজনীতির মূলমন্ত্র ছিল জনসেবা। ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের রাজনীতিতে নতুন মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ী শ্রেণির উত্থান শুরু হয়।
১৯৯০ - ২০২৪: নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে নির্বাচনে হলফনামা জমা দেওয়ার রীতি শুরু হয়। ২০০৮ সালে পার্থ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান রাজনীতিতে জবাবদিহিতার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
২০২৫ - ২০২৬: ২০২৫ সালের ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোটাররা এখন প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সম্পদের উৎস নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। আন্দালিব রহমান পার্থের হলফনামায় বড় কোনো সম্পদের পাহাড় না থাকা এবং পেশাগত আয়ের উপর নির্ভরতা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পার্থের রাজনৈতিক জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়। হলফনামার তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৮টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভোলা-১ আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ২০০৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি চষে বেড়াচ্ছেন ভোলার মাঠ-ঘাট। তার বাগ্মিতা এবং স্বচ্ছ ইমেজ তাকে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে।
সূত্র: ১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: আন্দালিব রহমান পার্থের দাখিলকৃত হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন। ২. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিবর্তন আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)। ৩. নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |