প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ময়মনসিংহ নগরীর শিববাড়িতে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) তালাবন্ধ কার্যালয় আবারও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এই কার্যালয়ের প্রধান ফটকের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেন এবং সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই কার্যালয়টিতে হামলার ঘটনা ঘটলো।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়গুলো ক্ষমতা ও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৫২ ও ১৯৭১-এর প্রতিটি বাঁকে রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো যেমন নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, তেমনি ক্ষমতার পালাবদলে এই কার্যালয়গুলোই বারবার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের ‘নতুন বাংলাদেশে’ আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রাচীন দলের নিষিদ্ধ হওয়া এবং তাদের কার্যালয় ভাঙচুর হওয়া ইতিহাসের এক বিশাল পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। ১৯০০ সালের সেই রাজরোষ আর ২০২৬ সালের ‘জনরোষের’ মধ্যে এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
সূত্রমতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে শিববাড়ির এই কার্যালয়টি পুনরায় চালুর ব্যাপারে গুঞ্জন শুরু হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আজাদ জাহান শামীমের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভাঙচুরের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। তারা শহীদ সাগরসহ হাজার হাজার ছাত্র-জনতার হত্যার সাথে জড়িত। শহীদ সাগরের রক্তের ওপর দিয়ে কোনোভাবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে এই কার্যালয় ভেঙে ‘পাবলিক টয়লেট’ করা হবে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আগুন নিভিয়ে ফেলে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
| তারিখ | ঘটনার প্রকৃতি | প্রধান কারণ |
| ৫ আগস্ট, ২০২৪ | ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ | শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও গণঅভ্যুত্থান। |
| পরবর্তী সময় | দ্বিতীয় দফা হামলা | আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্গঠনের চেষ্টা। |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়া ও অগ্নিসংযোগ | ২১ ফেব্রুয়ারি পতাকা উত্তোলন ও কার্যালয় খোলার চেষ্টা। |
সূত্র: ১. ময়মনসিংহের স্থানীয় সংবাদদাতা ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির বক্তব্য (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
২. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের প্রেস ব্রিফিং।
৩. ১৯০০-২০২৬: ময়মনসিংহের রাজনৈতিক ইতিহাস ও কার্যালয় দখলের বিবর্তন।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের চেষ্টা এবং তার বিপরীতে ছাত্র আন্দোলনের এই অনমনীয় অবস্থান প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি এখনো চরম উত্তপ্ত। ১৯০০ সালের সেই আমল থেকেই দেখা গেছে, কোনো শক্তি যখন জনবিচ্ছিন্ন হয়, তখন তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ময়মনসিংহের এই ঘটনাটি সারা দেশের নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |