প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান লড়াই ছিল অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের অধিকার। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৪০-এর দশকের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় ব্রিটিশ ও তৎকালীন শাসকদের অবহেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগেছিল। সেই অন্ধকার সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে ১৯৭৯ সালে বিএনপির সূচনালগ্ন থেকেই ‘জনকল্যাণমুখী’ রাজনীতির ধারা প্রবর্তন করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল মন্ত্রই ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব প্রমাণ করেছে যে, মানুষ এখন স্বচ্ছতা ও সুশাসন চায়। সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই খাদ্য সংকটের জনপদ থেকে ২০২৬ সালের এই ‘স্মার্ট সামাজিক নিরাপত্তা’—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশাল রূপান্তর।
বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের বিষয়টি আজ চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী চান অন্তত পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ঈদের আগেই এই কার্যক্রম শুরু করতে। এটি একটি সার্বজনীন প্রকল্প হবে, যেখানে কোনো অযৌক্তিক বিধিনিষেধ থাকবে না।"
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুরুতে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই কার্ডের আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ ছিল। সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া বর্তমান সরকারের গতিশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে রমজানের এই সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এটি একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ১. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও সচিবালয় প্রেস ব্রিফিং (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ সেল। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির ইতিহাস। ৪. জাতীয় সংবাদ সংস্থা ও নীতিনির্ধারণী নথিপত্র।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপটে যেখানে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, আজ ২০২৬ সালে সরকার ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহার করে সরাসরি মানুষের হাতে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে। আব্দুল আউয়াল মিন্টুর এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, সরকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সজাগ রয়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |