| বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান নিয়োগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-01-2026 ইং
  • 2611142 বার পঠিত
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান নিয়োগ
ছবির ক্যাপশন: আমির ডা. শফিকুর রহমান

ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান পেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সরকারিভাবে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। গত ১২ জানুয়ারি রবিবার তাকে গানম্যান দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমানের জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বর্তমানে ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকি’ বিদ্যমান। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একটি বিশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমিরের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন সার্বক্ষণিক গানম্যান এবং তার বাসভবনে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজনৈতিক ইতিহাসের আবর্তন: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এবং নেতাদের নিরাপত্তা ইস্যুটি সবসময়ই আলোচিত। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯৪১ সালে অবিভক্ত ভারতে দলটির যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় দলটির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে ১৯৭৫ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ১৯৭৬ সালে ‘পলিটিক্যাল পার্টি রেগুলেশন’ (PPR)-এর অধীনে দলটি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়।

১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতও রাজপথে ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর তারা কিং-মেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে সরকারেও যোগ দেয় দলটি। তবে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন জামায়াত এক কঠিন সময় পার করে। যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং নিবন্ধন বাতিলের মতো ঘটনায় দলটি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জামায়াতে ইসলামী নতুন করে রাজপথে তাদের শক্তি প্রদর্শন শুরু করে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তাপ এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ডা. শফিকুর রহমানের নিরাপত্তার এই সিদ্ধান্তটি এল।

কে কী বলেছেন: আলোচনার টেবিলে নিরাপত্তা ইস্যু

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণকেও একইভাবে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে।

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা: "আমরা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করেছি। ডা. শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে থ্রেট লেভেল বেশি থাকায় এই ব্যবস্থা।"

  • রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য: "২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জামায়াত আমিরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এটিই প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার সকল দলের নেতাদের সুরক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে।"

উপসংহার

বাংলাদেশের রাজনীতির ৫ দশকের ইতিহাসে জামায়াত আমিরের গানম্যান পাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


তথ্য সূত্র: ১. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর রেকর্ড (জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ (১৯৭১-২০২৪)। ৩. জাতীয় দৈনিক ও নিউজ পোর্টাল (যুগান্তর, কালবেলা ও জাগোনিউজ জানুয়ারি ২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency