| বঙ্গাব্দ

কিবোর্ডনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা খালেদা জিয়া; ১৯০০ থেকে ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের ইতিবৃত্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-01-2026 ইং
  • 2661971 বার পঠিত
কিবোর্ডনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা খালেদা জিয়া; ১৯০০ থেকে ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের ইতিবৃত্ত
ছবির ক্যাপশন: খালেদা জিয়া

এনালগ থেকে ডিজিটাল: প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের কারিগর যখন বেগম খালেদা জিয়া

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: আজকের প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ, ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিলিয়ন ডলার আয় কিংবা ঘরে ঘরে উচ্চগতির ইন্টারনেট—এই সবকিছুর ভিত্তি রচিত হয়েছিল নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের শুরুর দিকের কিছু দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই বাংলাদেশ লাঙলনির্ভর কৃষি অর্থনীতি থেকে কিবোর্ডনির্ভর আধুনিক প্রযুক্তির পথে যাত্রা শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ ও বেসিস (BASIS)-এর সহায়তাকারী কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রাফেক কবিরের মতে, “আজকের সফটওয়্যার রপ্তানি বা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের যে সাফল্য, তার বীজ বপন করা হয়েছিল বেগম জিয়ার নেওয়া সাবমেরিন ক্যাবল ও টেলিটক প্রতিষ্ঠার মতো সাহসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।”

তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের প্রবেশ: ২০০৬ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ

বাংলাদেশের আইটি খাতের সবচেয়ে বড় মাইলফলক অর্জিত হয় ২০০৬ সালের ২১ মে। ওইদিন বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম SEA-ME-WE-4-এর সঙ্গে যুক্ত করে। কক্সবাজারে ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনের মাধ্যমে বৈশ্বিক তথ্য মহাসড়কে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। তৎকালীন সময়ে অনেকে একে ‘বিলাসিতা’ বললেও আজ প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সাবমেরিন ক্যাবলই ছিল আধুনিক বাংলাদেশের ডিজিটাল মেরুদণ্ড।

১৯০০ থেকে ২০২৬: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দীর্ঘ পরিক্রমা

বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর বিবর্তন বুঝতে হলে গত এক শতাব্দীর ইতিহাসের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • ১৯০০-১৯৪৭ (প্রাথমিক পর্যায়): ১৯০০ সালের শুরুতে বাংলায় টেলিগ্রাফ ও রেলওয়ের মতো ব্রিটিশ প্রযুক্তির বিস্তার শুরু হয়। তবে তা ছিল মূলত ঔপনিবেশিক স্বার্থে।

  • ১৯৭১-১৯৯০ (ভিত্তি স্থাপন): স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা প্রসারের চেষ্টা শুরু হয়। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় তথ্যপ্রযুক্তি তখনো ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে।

  • ১৯৯১-২০০৬ (খালেদা জিয়ার যুগ): ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে স্থাপন করেন। ১৯৯৫ সালে কৃষিতে রাবার ড্যাম প্রযুক্তির প্রয়োগ থেকে শুরু করে ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু (ভাসানী) নভোথিয়েটার স্থাপন—সবই ছিল তার বিজ্ঞানমনস্কতার প্রমাণ। ২০০১-০৬ মেয়াদে আইটি খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ ঘোষণা এবং কম্পিউটারের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

  • ২০২৪-২০২৬ (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ): ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে প্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই (AI) প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯০০ সাল থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এক পূর্ণাঙ্গ নলেজ-বেসড ইকোনমিতে রূপান্তরের অপেক্ষায়।

অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতে নীরব বিপ্লব

বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে শুধু প্রযুক্তির আমদানি নয়, বরং মেধা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত হয়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক প্রতিষ্ঠা করে টেলিকম খাতে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করা হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তিনি একটি ডিজিটাল প্রজন্ম তৈরির ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন।

প্রতিরক্ষা ও শিল্পে আধুনিকায়ন

শুধু আইটি নয়, প্রতিরক্ষা খাতে চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (MiG-29) সংযোজন এবং নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট যুক্ত করার মাধ্যমে সামরিক প্রযুক্তিতে আধুনিকায়ন আনেন তিনি। পোশাক শিল্পে কম্পিউটারাইজড ডিজাইন ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে রপ্তানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা হয়।


বিশ্লেষণ: বেগম খালেদা জিয়ার প্রযুক্তি ভাবনা কোনো একক প্রকল্পে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প। ২০০৩ সালে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের তরুণদের হাত আজ মাটির লাঙল থেকে কম্পিউটারের কিবোর্ডে এসেছে—এটাই আমাদের বড় সাফল্য।” ২০২৬ সালের ডিজিটাল প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, তার সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সুফল আজ ১৬ কোটি মানুষ ভোগ করছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তাকে প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে ইতিহাস মনে রাখবে।

সূত্র: * বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ।

  • প্রকৌশলী রাফেক কবিরের সাক্ষাৎকার (যুগান্তর)।

  • বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (BTRC) রিপোর্ট।

  • জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা (২০০২)।

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency