প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তেহরান ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের ঘনঘটায় আচ্ছন্ন। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্য সমর্থন জানানোর পর পরিস্থিতি এক触স্পর্শী মোড় নিয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আমির হাতামি বিদেশি শক্তিগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান কোনো হুমকি নীরবে মেনে নেবে না। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এই খবর নিশ্চিত করেছে।
জেনারেল হাতামি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার চেয়েও কঠোর হবে।" উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হামলার মাধ্যমে এক ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেনারেল হাতামি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সেই সময়ের চেয়েও শক্তিশালী আঘাত হানতে ইরান এখন প্রস্তুত।
ইরানের এই অস্থিরতা বুঝতে হলে ইতিহাসের দিকে তাকানো প্রয়োজন:
১৯০০-১৯৫৩: ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ইরানে সাংবিধানিক বিপ্লব ঘটে। কিন্তু ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র মদদে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে হটিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ইরানের রাজনীতিতে পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব দানা বাঁধে।
১৯৭৯-এর বিপ্লব: ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চিরতরে বৈরিতায় রূপ নেয়।
২০০৯ ও ২০২২-২৩-এর বিক্ষোভ: ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচন এবং ২০২২-২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক গণআন্দোলন হয়েছিল।
২০২৪-২০২৬ (বর্তমান): গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বর্তমানে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতীতে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।" একই সুরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, তিনি ইরানি জনগণের 'মুক্তি ও ন্যায়বিচারের' পক্ষে।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা অভিযোগে জানিয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পরিকল্পিতভাবে ইরানে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন এবং জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত সংকটময়। একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইরানের ওপর পশ্চিমা হস্তক্ষেপের ইতিহাস বারবার দেশটিকে সামরিক শক্তিবৃদ্ধিতে বাধ্য করেছে। ২০২৬ সালের এই বিক্ষোভ যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ: ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক শক্তির মহড়া। ২০২৫ সালের জুনে হওয়া যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই অস্থিরতা ইঙ্গিত দেয় যে, পরমাণু ইস্যুতে ইরান ও পশ্চিমাদের দূরত্ব এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি এবং ইসরায়েলের সংহতি বার্তাকে তেহরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। সামনের দিনগুলোতে রিয়ালের মান নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সূত্র: * এএফপি।
ফারস নিউজ (ইরান)।
রয়টার্স ও আল জাজিরা আর্কাইভ।
আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউট (IISS)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |