প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে এখন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে গ্রেফতার করে নিউইয়র্কের কারাগারে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী, অন্যদিকে কারাকাসে মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, 'যুক্তরাষ্ট্রই এখন ভেনেজুয়েলা চালাবে', ঠিক তখনই মাদুরোর মিত্রদের এই পাল্টা পদক্ষেপ হোয়াইট হাউসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট, যা দীর্ঘকাল ধরে মাদুরোর রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি অনুগত, তারা এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ডেলসি রদ্রিগেজকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়। রদ্রিগেজ কেবল মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্টই ছিলেন না, বরং তিনি মাদুরোর শাসনকাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ। শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, "ভেনেজুয়েলা কোনো নব্য-ঔপনিবেশিক শক্তি বা সাম্রাজ্যের কাছে মাথা নত করবে না। ভেনেজুয়েলাই নিজেকে রক্ষা করবে।" ### ট্রাম্পের ‘তেল’ পরিকল্পনা ও নতুন চ্যালেঞ্জ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল খনি ও অবকাঠামো মেরামতের জন্য বড় বড় মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সেখানে পাঠানো হবে। ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল মাদুরোকে সরিয়ে নিজের পছন্দের কোনো নেতৃত্ব বসানো। তবে রদ্রিগেজের এই শপথ সেই পরিকল্পনায় ‘গুড়ে বালি’র মতো কাজ করেছে। ট্রাম্প এমনকি বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোকে সমর্থনের পরিবর্তে রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার এক ধরনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিলেও, রদ্রিগেজের বর্তমান অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
বাংলার রাজনীতিতে যেমন ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ পর্যন্ত বারবার বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের ইতিহাস দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার চিত্রও আজ অনেকটা একই রকম। ১৯৩৭ সালের দিকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যেভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপের ছায়া ছিল, ২০২৬-এর এই সামরিক অভিযান যেন সেই স্মৃতিকেই ফিরিয়ে আনল। তবে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে মাদুরোকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা শাসনের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে মার্কিন সেনারা এখনো দেশটির ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছে না। মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন একটি কড়া বার্তা দিলেও কারাকাসের রাজপথ এবং সরকারি দপ্তরগুলো এখনো মাদুরো বলয়ের নিয়ন্ত্রণে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রদ্রিগেজের এই ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রমাণ করে যে, ভেনেজুয়েলার সামরিক ও বিচারবিভাগীয় কাঠামো এখনো মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি অবিচল।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আন্তর্জাতিক সংবাদ ডেস্ক (৪ জানুয়ারি ২০২৬)।
২. দ্য গার্ডিয়ান ও সিবিএস নিউজ - ভেনেজুয়েলা বিশেষ প্রতিবেদন (২০২৬)।
৩. ট্রুথ সোশ্যাল - মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অফিশিয়াল বার্তা।
৪. ভেনেজুয়েলা সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক আদেশ ও রদ্রিগেজের ভাষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |