প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে সারা দেশে। এই নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই সামনে এলো বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় এই সিনিয়র রাজনীতিবিদের আর্থিক ও আইনি জীবনের এক স্বচ্ছ চিত্র ফুটে উঠেছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) জমা দেওয়া এই হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং রাজপথের লড়াইয়ের মাঝেও মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মির্জা ফখরুলের বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। তবে মজার বিষয় হলো, আয়ের একটি বড় অংশ আসে ‘পরামর্শক’ হিসেবে। তিনি ‘ইজাব গ্রুপ’-এর পরামর্শক বাবদ বছরে ৬ লাখ টাকা সম্মানী পান। এছাড়া ব্যবসা, পৈতৃক সম্পত্তি এবং ‘দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এ চাকরির আয়ও তার থলিতে যুক্ত হয়।
নগদ টাকা: মির্জা ফখরুলের কাছে নগদ রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখেরও বেশি টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র ও মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে তার স্ত্রীর পাল্লা বেশি ভারী।
জমি ও আবাসন: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের নামে ৫ একর কৃষিজমি রয়েছে, যার ক্রয়কালীন মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে ৫ কাঠা জমি এবং ১৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এই দম্পতির নামে।
অন্যান্য: মির্জা ফখরুলের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ‘দুই নালা’ বন্দুকের উল্লেখ রয়েছে হলফনামায়। তবে স্বর্ণ ও গাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য উহ্য রাখা হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন মানেই যেন রাজপথ আর আইনি লড়াইয়ের এক দীর্ঘ উপাখ্যান। ১৯৫০-এর দশকে তার পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য থাকলেও মির্জা ফখরুল নিজে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এবং ২০২৫ সালের বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ায় তার বেশিরভাগ মামলাই নিষ্পত্তি বা স্থগিত হয়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি বেশ কিছু নাশকতার মামলা থেকে আদালত কর্তৃক অব্যাহতি পেয়েছেন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ার পথে তার সামনে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৪-এ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর বিএনপির জন্য এই নির্বাচনটি অত্যন্ত আবেগঘন ও চ্যালেঞ্জিং। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই হলফনামা প্রদান জনগণের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উদাহরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রসমূহ: ১. নির্বাচন কমিশন (EC) বাংলাদেশ - ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা (২০২৫)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন (ঠাকুরগাঁও)। ৩. বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর ও রাজনৈতিক আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |