১৭ বছর পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন: প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যের নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখলেন জননন্দিত এই নেতা। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথের প্রতিটি মোড়ে তখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়। লাখো মানুষের ভালোবাসা আর উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হয়ে তিনি ঘোষণা করলেন এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন—যেখানে প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই, বরং থাকবে শান্তি, মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।
স্বদেশে ফেরার পর আবেগঘন এক পরিবেশে তিনি বলেন, "আপনাদের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা, ঢাকার রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল আর লাখো মানুষের দোয়া আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। এই ফিরে আসা নিয়ে আমার এবং আমার পরিবারের মনে যে ভালোবাসা ও সম্মান কাজ করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।" তিনি আরও যোগ করেন যে, যারা সব প্রতিকূলতার মাঝেও আশা হারাননি এবং তার পাশে ছিলেন, তাদের সাহসেই তিনি প্রতিনিয়ত শক্তি পেয়েছেন।
বিশেষ করে নাগরিক সমাজ, তরুণ সমাজ, কৃষক, শ্রমিক এবং পেশাজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আপনারাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়, যখন এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এদেশের মানুষ বারবার শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৬৬-র ছয় দফা ছিল বাঙালির স্বাধিকারের লড়াই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীন ভূখণ্ড আমরা পেয়েছি, তা ছিল জনগণের অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন।
১৯৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেলেও সাধারণ মানুষ কখনো হার মানেনি। ২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের এই বর্তমান সময়টি এখন সেই আন্দোলনের ফসল হিসেবে 'রাষ্ট্র সংস্কার' এবং 'গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি' পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক সন্ধিক্ষণ।
বক্তৃতায় তিনি কেবল আবেগের কথা বলেননি, বরং ২০২৫ পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "গতকাল আমি শুধু কোনো স্বপ্নের কথা বলিনি, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বাস্তব পরিকল্পনার কথা বলেছি। যে বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে এবং প্রতিটি শিশু আশার আলো নিয়ে বড় হবে।"
তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে বহুদলীয় সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর জোর দেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ যারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাদের প্রতিও তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ সময় পর দেশে ফেরার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তার ফেরা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সেবার গুরুত্বকে তিনি বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, এই পরিকল্পনা সব বাংলাদেশিদের জন্য—একটি ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য। "সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।" পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও দশের জন্য রহমত কামনা করেন।
সূত্র: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনাবলী (২০২৪-২৫ সংস্করণ)। ২. জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আর্কাইভ এবং সংগৃহীত রাজনৈতিক বক্তৃতা। ৩. রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিক দলিলাদি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |