| বঙ্গাব্দ

ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনি তহবিলে ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-12-2025 ইং
  • 2940499 বার পঠিত
ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনি তহবিলে ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ।
ছবির ক্যাপশন: ডা. তাসনিম জারা

২৯ ঘণ্টায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ: ঢাকা-৯ আসনে ডা. তাসনিম জারার তহবিলে জমা ৪৭ লাখ টাকা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতির চিরচেনা 'টাকা ও পেশিশক্তির' প্রথাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। নির্বাচনে প্রচারণার জন্য প্রয়োজনীয় ৪৭ লাখ টাকার তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা জানান।

তহবিলের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক বার্তা

ডা. তাসনিম জারা জানান, অভূতপূর্ব সাড়ায় তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ায় বর্তমানে আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, "পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে এই সাড়া কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।" যেখানে অধিকাংশ প্রার্থী এই নির্বাচনে ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেখানে ডা. জারা প্রমাণ করলেন যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতেও প্রস্তুত।

তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন:

  • কোনো ক্যাশ অনুদান গ্রহণ করা হয়নি; সরাসরি ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে।

  • হিসাবটি শূন্য থেকে শুরু হয়েছে এবং এর প্রতিটি পয়েন্টের হিসাব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হবে।

  • পেইড কর্মী নিয়োগ না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবক নির্ভর প্রচারণার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ইতিহাসের নিরিখে নতুন রাজনীতির উত্থান

বাংলাদেশের রাজনীতির বিবর্তন লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন দানা বাঁধছিল, তখন সাধারণ মানুষের ছোট ছোট চাঁদায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু আশির দশকের সামরিক শাসন এবং নব্বই পরবর্তী গণতান্ত্রিক যুগে রাজনীতিতে 'কালো টাকা' ও 'পেশিশক্তি'র এক ভয়াবহ সংস্কৃতি জেঁকে বসে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একদলীয় আধিপত্যের সময়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই পুরনো পচা-গলা রাজনৈতিক কাঠামোকে প্রত্যাখ্যান করার একটি বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে এসে ডা. তাসনিম জারার মতো তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বের এই 'ক্রাউড ফান্ডিং' মডেল ১৯৫০-এর দশকের সেই ত্যাগী রাজনীতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ২০২৫-এর নতুন বাংলাদেশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

'আসল লড়াই' ও নির্বাচনি কৌশল

ঢাকা-৯ আসনে প্রায় ৫ লাখ ভোটার রয়েছেন। ডা. জারা জানিয়েছেন, টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে তিনি কোনো পেইড বিলবোর্ড বা ব্যানার ব্যবহার করবেন না। এর বদলে তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "পরিচিত মানুষের একটি কথাই পোস্টার বা ব্যানার খরচের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।" তিনি সমর্থকদের সপ্তাহে ৪-৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া এবং পোলিং এজেন্ট হিসেবে ট্রেনিং নিয়ে টিমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।


সূত্র: ১. ডা. তাসনিম জারার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ আপডেট (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও প্রচার উইং। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক রেকর্ড (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency