নিচে আপনার নির্দেশনানুসারে যুগান্তর ও গুগল এনালাইসিসের তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার ও সমসাময়িক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি দেওয়া হলো:
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন: যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার, ট্রাম্পের বিশেষ দূতের সঙ্গে ড. ইউনূসের ফোনালাপ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনের তারিখ ও পরিবেশ সবসময়ই একটি বড় আলোচনার বিষয়। ১৯৫০-এর দশকে যখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোতে বাঙালিরা তাদের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছিল, তখন থেকেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৫ সালের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আবারো পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৫০-এর দশকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির জয়জয়কার ছিল ভোটাধিকার আদায়ের প্রথম বড় বিজয়। এরপর ১৯৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসন এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একেকটি মাইলফলক। তবে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালে এসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে কথা হয়।
ফোনালাপে সার্জিও গোর বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তি।
প্রধান উপদেষ্টা ফোনালাপে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করেন। ইনকিলাব মঞ্চের এই তরুণ নেতা ১২ ডিসেম্বর ২০২৫-এ গুলিবিদ্ধ হন এবং ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ড. ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা পলাতক নেতার উস্কানিতে নির্বাচন বানচাল করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে এবং সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনের আর মাত্র ৫০ দিন বাকি। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্মরণীয় নির্বাচন আয়োজন করতে চাই।"
১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং অন্যদিকে দেশের ভেতরে সংস্কারের দাবি—এই দ্বিমুখী চাপে সরকার অবিচল থাকার চেষ্টা করছে। ফোনালাপের সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ দূতের কলটি প্রমাণ করে যে, বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সালের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশে নির্বাচন যখনই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, তখনই বৈদেশিক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের এই সুসম্পর্ক এবং শুল্ক সুবিধার বিষয়টি ২০২৫-এর নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তবে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে না পারলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
সূত্র: ১. প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও বাসস (২২ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. দৈনিক যুগান্তর (আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রাজনীতি বিভাগ, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. উইকিপিডিয়া ও টাইমস্ অব ইন্ডিয়া রিপোর্ট (২০২৫-এর শুল্ক ও সহিংসতা বিশ্লেষণ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |