প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল যখন 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে গণভোট ও আরপিও স্থিতিশীল রাখার দাবিতে আন্দোলন করছে, ঠিক তখনই এই সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী দল বিএনপি তাদের ঘোরতর আপত্তি প্রকাশ করল। বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একটি টক শোতে জুলাই সনদের মূল ডকুমেন্ট, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা এবং সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে তিনটি গুরুতর আপত্তির কথা স্পষ্ট করেছেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সময় বিএনপিকে পুরো ডকুমেন্টটি দেওয়া হয়নি, এবং পরবর্তীতে ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া গিয়েছিল, সেগুলোর প্রতিফলন মূল সনদে অনুপস্থিত। তিনি এই বিষয়ে দুটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়েছেন, যা বিএনপির আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু:
| আপত্তির ক্ষেত্র | ঐকমত্য কমিটির সিদ্ধান্ত | মূল সনদে প্রতিফলনের চিত্র |
| ৪(ক) অনুচ্ছেদ | মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অফিস-আদালতে না রাখার প্রস্তাব। | এই বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত হলেও, মূল সনদে এর প্রতিফলন নেই। |
| ১৫০ অনুচ্ছেদ | সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল সংবিধানে না রাখার বিষয়ে ঐকমত। | এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও মূল সনদে প্রতিফলিত হয়নি। |
| সংবিধান সংস্কার পরিষদ | ২৭০ দিনের মধ্যে পরবর্তী পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার বাধ্যতামূলক করা। | এই বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়নি বা দলগুলো একমত হয়নি, কিন্তু সনদে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। |
জুলাই সনদে ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা এবং সংসদ ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ার বিধানের বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
অবাস্তব বাধ্যবাধকতা: ২৯০ দিনের মধ্যে ২৭০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া এবং এর ব্যর্থতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ার বিধানকে তিনি 'অসম্ভব' বলে অভিহিত করেছেন।
সুপ্রিম ল-এর অবমাননা: তিনি যুক্তি দেন, সংবিধান একটি 'সুপ্রিম ল'। এই আইন সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। "এভাবে জীবনে কোথাও কোনো দেশে কোনো কালে সংবিধান সংস্কার হয়নি।"— এই মন্তব্য করে তিনি পদ্ধতির ওপর জোর দেন।
জামায়াতসহ ৮ দলের গণভোটের দাবিতে নির্বাচন পেছানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিএনপি সেটিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করে।
বাস্তবতার নিরিখে গণভোট: রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের সময় গণভোট আয়োজন করলে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী অতিরিক্ত দেড় মাস সময় এবং তিন হাজার কোটি টাকা বাড়তি লাগবে। ডিসেম্বরের ১৭ তারিখের আগে গণভোট আয়োজন করা সম্ভব নয়।
নির্বাচন বিলম্বের সুবিধা: তিনি মনে করেন, কিছু দল একেক সময় একেক ইস্যু সামনে এনে নির্বাচনটি ডিলে করার এবং অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
দেশের স্বার্থ: বিএনপির নেত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকার, অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা— সবদিক বিবেচনা করলে, আসন্ন নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশ অন্য কিছু 'ইফোর্ট' করতে পারে না।
জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী নির্বাচনি প্রস্তুতির দিকে ইঙ্গিত করে রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলেছেন, তারা কেন এখন নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাইছে:
"আমাদের যতগুলো পলিটিক্যাল পার্টি আছে, কোনো দলের এত আগে থেকে এত ভালো নির্বাচনি প্রিপারেশন নাই জামায়াতের প্রিপারেশন যতটা ভালো।"
তিনি বলেন, জামায়াত যেখানে ৩০০ আসনে প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে এবং ফজরের ওয়াক্ত থেকে রাত পর্যন্ত ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে, সেখানে তারা কেন নিম্নকক্ষে পিআর (Proportional Representation) নিয়ে কথা বলছে বা নির্বাচন ডিলে করার সুবিধা নিতে অন্য দলকে চাপ দিচ্ছে। তার মতে, নিজের ঘরে শতভাগ প্রস্তুতি রেখে অন্য দলকে নির্বাচন ডিলে করার জন্য পুশ করা ঠিক না।
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের এই জোরালো বক্তব্য প্রমাণ করে যে, জুলাই সনদ কেবল সরকার বিরোধী ঐক্যের প্রতীক নয়, এটি এখন স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্যেই গভীর মতানৈক্য ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। যেখানে ৮ দল সনদ বাস্তবায়নে অনড়, সেখানে বিএনপির মূল আপত্তির জায়গা হলো: সনদে ঐকমত্যের প্রতিফলন না থাকা এবং সংবিধান সংস্কারের বিতর্কিত পদ্ধতি। এই দ্বিমত জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিল।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে দেওয়া বক্তব্য।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নীতিনির্ধারকদের প্রকাশিত অবস্থান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |