| বঙ্গাব্দ

ইরানের নৌবাহিনী: নিজস্ব সক্ষমতায় যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত, মুসাভির হুঁশিয়ারি | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-11-2025 ইং
  • 2360303 বার পঠিত
ইরানের নৌবাহিনী: নিজস্ব সক্ষমতায় যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত, মুসাভির হুঁশিয়ারি | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ইরানের নৌবাহিনী

🇮🇷 আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরশীলতা: ইরানের নৌবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা ও হুঁশিয়ারি

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মুসাভি জানিয়েছেন, দেশটির নৌবাহিনী সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। নিজস্ব সক্ষমতা, কৌশলগত সক্ষমতা এবং ‘জিহাদি মনোভাবের’ ওপর নির্ভর করেই ইরানের নৌবাহিনী এই প্রস্তুতি নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের নৌ বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। জেনারেল মুসাভির এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পানিসীমা, বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের সামরিক দৃঢ়তাকেই প্রকাশ করে।

সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের কৌশলগত সক্ষমতার দাবি

চিফ অফ স্টাফ সাইয়্যেদ মুসাভি জোর দিয়ে বলেন, ইরান পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং তার আঞ্চলিক পানিসীমায় টেকসই নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি নৌবাহিনীর এই সক্ষমতাকে একাধিক বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ফল বলে দাবি করেন।

জেনারেল মুসাভি বলেন,

"নৌ বাহিনী নিজস্ব সামর্থ্য, কার্যকর উদ্যোগ এবং জিহাদি চেতনার মাধ্যমে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর, কার্যকর এবং অনুশোচনা সৃষ্টিকারী জবাব দিতে সক্ষম—এটা তারা প্রমাণ করেছে।"

তিনি এই সাফল্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন,

"পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমায় টেকসই নিরাপত্তা বজায় রাখতে যে সক্ষমতার বিকাশ ঘটেছে, তা সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নৌ ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা ও গঠনমূলক পারস্পরিক সম্পর্কের ফসল।"

🇧🇩 বাংলাদেশের সামরিক ও আঞ্চলিক সুরক্ষার প্রেক্ষাপট (১৯৫০-২০২৫)

ইরানের মতো একটি রাষ্ট্র যখন নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা দেয়, তখন তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সামরিক উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

  • ১৯৫০-এর দশক: সামরিক দুর্বলতা: পাকিস্তানের অংশ থাকাকালীন (১৯৫০-১৯৭১) পূর্ব পাকিস্তান সামরিকভাবে ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং সম্পূর্ণ পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজেদের কোনো কৌশলগত সক্ষমতা ছিল না।

  • ১৯৭১: স্বাধীনতা ও সামরিক চেতনার জন্ম: স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার নিজস্ব সামরিক বাহিনীর জন্ম দেয়। এই বাহিনীর প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল ‘জিহাদি মনোভাব’ বা আত্মত্যাগের সেই চেতনা যা মেজর জেনারেল মুসাভি উল্লেখ করেছেন।

  • ২০০০-এর দশক: নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধি: দেশের আঞ্চলিক পানিসীমা ও সমুদ্র সম্পদ সুরক্ষায় ২০০০-এর দশকের পর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। পারস্য উপসাগর, ওমান সাগরের মতো বাংলাদেশের জন্য বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • ২০২৫: সামরিক আধুনিকায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা: বর্তমানে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর অধীনে ব্যাপক আধুনিকায়ন করছে। ইরানের মতো বাংলাদেশও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং নিজস্ব প্রযুক্তির বিকাশে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে। এটি যেকোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুতি বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের বক্তব্য সামরিক সক্ষমতা এবং বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের যে বার্তা দেয়, তা বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার কৌশলের জন্যই অনুকরণীয়।


সূত্র:

  1. ইরানের সরকারি সংবাদ মাধ্যম এবং প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (PTI)

  2. গুগল অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাস বিশ্লেষণ (১৯৫০-২০২৫)

  3. ইরানের নৌ বাহিনী দিবস উপলক্ষে মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মুসাভির বার্তা (নভেম্বর, ২০২৫)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency