রক্ত দিতে হলে আমরা আগে থাকি, কিন্তু ক্ষমতার প্রশ্নে আর খুঁজে পাওয়া যায় না”—এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র অভিব্যক্তি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে লিখেছেন,
“রক্ত দিতে হলে আমরা সবার আগে থাকি, কিন্তু ক্ষমতার প্রশ্ন এলে, আমাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পুনরাবৃত্তি!”
এই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নেতৃত্বের স্বার্থকেন্দ্রিক প্রবণতার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ দুটি ছবি যুক্ত করেন—
প্রথম ছবিতে দেখা যায় গত বছরের ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানানোর দৃশ্য। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা—নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, উমামা ফাতেমাসহ অনেকে।
দ্বিতীয় ছবিটি শুক্রবারের জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের; যেখানে ড. ইউনূসের পাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন,
“এই দেশে এখন পর্যন্ত চোখে দেখা যায় এমন একমাত্র সংস্কার হলো এই ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে।”
তার ইঙ্গিত ছিল—বিপ্লবের সময় যাঁরা সামনে ছিলেন, আজ ক্ষমতা ভাগাভাগির টেবিলে তাঁরা অনুপস্থিত; বরং অন্যরা স্থান দখল করেছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি এবং অনুষ্ঠানে যোগও দেয়নি।
দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি স্পষ্ট নয়, তাই এনসিপি অনুষ্ঠান বর্জন করেছে।”
দলের অবস্থান অনুযায়ী,
“জুলাই সনদকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখা উচিত নয়; এটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের রূপরেখা হওয়া প্রয়োজন।”
ফলে হাসনাতের পোস্টটিকে অনেকেই দলীয় অবস্থানের প্রতিধ্বনি এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের মিশ্র প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাস কেবল একটি ফেসবুক মন্তব্য নয়—এটি জুলাই সনদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
২০১৯–২০২৪ সালের আন্দোলন ও ছাত্র-রাজনীতির ধারাবাহিকতায় যারা পরিবর্তনের সামনের সারিতে ছিলেন, তারা আজ অনেকেই সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছেন।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন,
“এই স্ট্যাটাসে ‘রক্ত দেওয়া’ মানে হলো ত্যাগী কর্মীদের অবদান, আর ‘খুঁজে না পাওয়া’ মানে ক্ষমতার বণ্টনে তাদের উপেক্ষা। এই প্রতীকী ভাষা এখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি সঠিক প্রতিফলন।”
পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এতে হাজারো লাইক, শতাধিক মন্তব্য ও শেয়ার জমে।
বেশিরভাগ মন্তব্যে দেখা যায়—
অনেকে হাসনাতের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন,
কেউ কেউ বলেছেন “এই কথাই এখন দেশের বাস্তবতা”,
আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন “এনসিপি নিজেরাই ঐক্যের বাইরে থেকে এখন হতাশা দেখাচ্ছে।”
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই স্ট্যাটাস একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে—ত্যাগ ও ক্ষমতার ব্যবধান।
জুলাই সনদ যেখানে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে, সেখানে এনসিপি ও তাদের নেতাদের মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—
“এই ঐক্য কি প্রকৃত অর্থে সবার, না কি এটি কেবল ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের আরেক রূপ?”
তার স্ট্যাটাসের শেষ শব্দ “পুনরাবৃত্তি!” হয়তো এই বার্তাই দিয়েছে—ইতিহাস আবারও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে।
যুগান্তর, “জুলাই সনদে যায়নি এনসিপি: আখতার হোসেনের ব্যাখ্যা”, ১৮ অক্টোবর ২০২৫।
বাংলাদেশ প্রতিদিন, “রক্ত দিতে হলে আগে থাকি, ক্ষমতায় খুঁজে পাওয়া যায় না: হাসনাত আব্দুল্লাহ”, ১৮ অক্টোবর ২০২৫।
প্রথম আলো, “হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া”, ১৮ অক্টোবর ২০২৫।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |