| বঙ্গাব্দ

রাশেদ খানের প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী উপদেষ্টারা কি প্রত্যাশা পূরণে অযোগ্য?—দুর্নীতি, জবাবদিহি ও চার মাসের রোডম্যাপ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-10-2025 ইং
  • 5430789 বার পঠিত
রাশেদ খানের প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী উপদেষ্টারা কি প্রত্যাশা পূরণে অযোগ্য?—দুর্নীতি, জবাবদিহি ও চার মাসের রোডম্যাপ
ছবির ক্যাপশন: রাশেদ খান

‘চার মাসে অলৌকিক কিছু আশা করি না’: উপদেষ্টাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাশেদ খান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশে গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের “জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পুরোপুরি যোগ্যতা নেই”—এমন মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫, নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আগামী চার মাসে এই সরকারের কাছে তাঁরও “বেশি প্রত্যাশা নেই”। পোস্টে তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, অবৈধ সম্পদ জব্দ, অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স, সরকারি–ব্যবসায়ী–রাজনীতিকদের নিয়মিত সম্পদ বিবরণী প্রকাশ—ইত্যাদি প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, “কথার ফুলঝুরি ছাড়া দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই”

নিচে রাশেদ খানের বক্তব্যের মূল পয়েন্ট, সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট ও যাচাইযোগ্য তথ্য সাজানো হলো—বাংলাদেশ প্রতিদিনের পাঠকের জন্য।


রাশেদ খানের উত্থাপিত প্রধান অভিযোগ ও প্রত্যাশা (সংক্ষিপ্ত)

  • দুর্নীতিবিরোধী কড়া অভিযান: অফিস–আদালতে দুর্নীতি বিরোধে কঠোর পদক্ষেপ, দুদক–কেন্দ্রিক শুদ্ধি অভিযানের দাবি।

  • অবৈধ সম্পদ ও জবাবদিহি: উপদেষ্টা–আমলা–ব্যবসায়ী–রাজনীতিক সবার ৩ বা ৬ মাস পরপর সম্পদ বিবরণী ওয়েবসাইটে প্রকাশ, গরমিল ধরা পড়লে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা।

  • অপরাধে জিরো টলারেন্স: মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারি, কিশোর গ্যাং, নারী নির্যাতন—সবকিছুতে বিশেষ অভিযান

  • শিক্ষা–চিকিৎসা অগ্রাধিকার: দু’টি খাতে দৃশ্যমান কাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় হতাশা।

  • আইনের শাসন ও স্বচ্ছতা: অন্তর্বর্তী সরকারের “মোটামুটি ব্যর্থতা”–র অভিযোগ; বাকি চার মাসে “কম প্রত্যাশা”

নোট: উপরের সারাংশটি রাশেদ খানের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য/পোস্টের বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত রূপ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি বছরের বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে ও সমাবেশে উপদেষ্টা প্যানেলের গঠন, স্বচ্ছতা ও নির্বাচনপথ–নকশা নিয়েও সমালোচনা করেছেন। 

প্রেক্ষাপট: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়রেখা ও বিতর্ক (২০২৪–২০২৫)

  • অভ্যুত্থান–উত্তর অন্তর্বর্তী সরকার: ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার তীব্র বিক্ষোভ–সহিংসতার পটভূমিতে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নাম ঘোষণার খবর প্রথম সারির আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। 

  • নীতিগত টানাপোড়েন ও নির্বাচন–সময়সূচি: ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নির্বাচন–পথরেখা নিয়ে সরকারের ভেতরে–বাইরে মতভেদ ও চাপ বাড়তে থাকে; কখন ভোট হবে—এ নিয়ে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬–এর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা দেখা যায়। 

  • দল–রাজনীতি ও বিধিনিষেধ: অন্তর্বর্তী সরকারকালে দলীয় কার্যক্রম বা নিবন্ধন–সংক্রান্ত কড়াকড়ি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে; এতে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও মানবাধিকার–সংক্রান্ত সমালোচনাও উঠে আসে। 

  • শ্রমিক–কর্মচারী–শিক্ষক আন্দোলন: ২০২৫ জুড়ে বিভিন্ন খাতে বেতন–ভাতা বাড়ানো, চাকরি নিরাপত্তা, ভাতা কাঠামো—ইত্যাদি ইস্যুতে ধারাবাহিক আন্দোলন হয়; অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ ও বার্তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও ছিল।


সদ্যঘটিত ইস্যু: এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের আন্দোলন

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সমান্তরালে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ২০%, মেডিক্যাল ভাতা Tk 1,500 ও উৎসব ভাতা ৭৫%–এর দাবিতে ঢাকায় কয়েক দফা অবরোধ–মার্চ–সিট–ইন চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভাড়া–ভাতা Tk 500 বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে তা অপর্যাপ্ত বলে আন্দোলনকারীরা প্রত্যাখ্যান করেন এবং “মার্চ টু সেক্রেটারিয়েট”–এর মতো কর্মসূচি ঘোষণা করেন। 

কেন জরুরি? অন্তর্বর্তী সরকারের জনআস্থা–পরীক্ষা এখন প্রধানত পাবলিক–সার্ভিস ডেলিভারিজবাবদিহি–স্বচ্ছতা–তে। শিক্ষক–কর্মচারীদের মতো জীবনযাত্রা–সংকটে থাকা গোষ্ঠীগুলোর দাবির দ্রুত সমাধান নীতি–আস্থার সূচক হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষণ: রাশেদ খানের সমালোচনা কতটা বাস্তবসম্মত?

  1. অভিযান বনাম ‘দৃশ্যমানতা’: অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারে সময় চান—এমন বার্তা এসেছে; কিন্তু “দৃশ্যমান ফল” নিয়ে মধ্যপর্যায়ে অসন্তোষ জমেছে—এটি আংশিকভাবে সত্য, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও শাসন–পরিবর্তন ও সংস্কার–টাইমলাইনের ধীরগতির কথা আছে। জবাবদিহি–স্বচ্ছতা: উপদেষ্টা ও আমলাদের নিয়মিত সম্পদ–হালনাগাদ প্রকাশ—এটি রাশেদ খানের নীতি–প্রস্তাব হিসেবে যুক্তিযুক্ত; তবে বাস্তবায়ন করতে হলে আইন, সংস্থা–সমন্বয়ডেটা–অডিট–এর প্রস্তুতি চাই।

  2. আইনের শাসন ও জিরো টলারেন্স: মাদক–চাঁদাবাজি–গ্যাং—এসব অপরাধে নিয়মিত, তথ্যভিত্তিক টার্গেটেড অপারেশন জরুরি। অন্তর্বর্তী সময়ে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন প্রয়োগ কঠিন হলেও—পাবলিক কমিউনিকেশনউন্মুক্ত মেট্রিক্স (গ্রেপ্তার–মামলা–শাস্তি–পুনর্বাসন) প্রকাশ করলে আস্থা বাড়ে।

  3. শিক্ষা–চিকিৎসা অগ্রাধিকার: বাজেট–পুনর্বিন্যাস, এমপিও–ভাতা কাঠামো, উপজেলা–হাসপাতাল আপগ্রেড, ইনস্যুরেন্স/হেলথ কার্ড—এসব ‘দ্রুত ফল’–ধরনের পদক্ষেপ নিলে সমালোচনার চাপ কমে।

  4. নির্বাচনের টাইমলাইন: নির্বাচন পিছোনো/আগানো—দুই দিকেই রাজনীতির চাপ আছে; আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এপ্রিল ২০২৬–কে লক্ষ্য ধরে সরকার “ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম”–এর সময় চাইছে, বিরোধীদের একটি অংশ ২০২৫–এর মধ্যেই ভোট চান—এখানেই নীতিগত সংঘাত। 

সারকথা: রাশেদ খানের বক্তব্য জনআকাঙ্ক্ষা–কেন্দ্রিক; তবে তা নীতিপ্রয়োগের কাঠামোসময়ের বাস্তবতা–দুটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। বাকি চার মাসে আস্থা ফেরাতে হলে—(ক) শিক্ষক–কর্মচারী সংকটের দ্রুত গেজেট/নোটিফিকেশন, (খ) জিরো–টলারেন্স অপারেশনের প্রকাশ্য সূচক, (গ) উপদেষ্টা–আমলাদের বার্ষিক/অর্ধবার্ষিক সম্পদ বিবরণী অনলাইনে প্রকাশ, (ঘ) স্বাস্থ্য–শিক্ষায় তিনটি ‘দ্রুত ফল’ প্রকল্প—এই চারটি তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি।


প্রেক্ষাপট–ভিত্তিক তুলনা (সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ১৯৯০, ২০০৭ ও বর্তমান)

  • ১৯৯০–৯১: গণ–আন্দোলনের পর এরশাদ–পতন; ১২তম সংশোধনীতে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরা—সংক্রমণ–পর্বে দৃশ্যমান রোডম্যাপদ্রুত নির্বাচন ছিল আস্থার মূল চাবিকাঠি।

  • ২০০৭–০৮: জরুরি অবস্থা–তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন বিলম্ব; শুদ্ধি অভিযান–কেন্দ্রিক জনআস্থা–কমিউনিকেশন ছিল জোরদার।

  • ২০২৪–২৫: বর্তমান অন্তর্বর্তী সময়ে বহুমুখী চাপ (রাজনীতি–প্রশাসন–সামাজিক দাবি)—এখানে স্বচ্ছ সময়রেখাখরচ–সুবিধা–দেখা যায় এমন সিদ্ধান্ত ছাড়া আস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন। (ঐতিহাসিক তুলনা; সমসাময়িক প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত) 

সূত্র (৩টি)

  1. Reuters— অন্তর্বর্তী সরকারের সময়রেখা, নেতৃত্ব, নির্বাচন–সময়সূচি ও রাজনৈতিক চাপের প্রতিবেদনসমূহ (আগস্ট ২০২৪ নাম ঘোষণাসহ, ২০২৫–এর নির্বাচন টাইমলাইন)। 

  2. Financial Times / Al Jazeera— সংস্কার বিলম্ব, নির্বাচনপন্থা ও সেনাবাহিনী/রাজনৈতিক চাপ–বিষয়ক বিশ্লেষণ। 

  3. bdnews24— ২০২৫–এর এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের বাড়িভাড়া–ভাতা আন্দোলনের ধারাবাহিক প্রতিবেদন। 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency