প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ময়মনসিংহ নগরীর তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম অভিযোগ করেন, শাপলা প্রতীক বরাদ্দে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ‘মনমতো’ আচরণ করছে। তাঁর ভাষ্য, “আইনগত বাধা যেহেতু নেই, এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিতে হবে। ‘মন চাইলো দেব না’—এটা আমরা মানি না। এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে।” তিনি আরও দাবি করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেওয়া হবে না; ইসির উচিত আইনি কাঠামো মেনে সিদ্ধান্ত দেওয়া।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইসি ১১৫টি নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ‘শাপলা’ (Water Lily) অন্তর্ভুক্ত নয়—এ নিয়ে এনসিপি প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছে। একই সময়ে ইসি এনসিপিকে রিজার্ভ তালিকা থেকে প্রতীক বাছাই করতে পুনরায় চিঠি দিয়ে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে জানিয়েছে, সময়সীমার মধ্যে না জানালে ইসি নিজ সিদ্ধান্তে প্রতীক নির্ধারণ করবে—বলেন ইসি সিনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদ। এনসিপি পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে, জাতীয় প্রতীকের উপাদান থেকে প্রতীক বরাদ্দের নজির আছে (যেমন—ধানের শীষ, তারকা ইত্যাদি), সুতরাং আইনগত বাধা নেই বলে তাদের দাবি।
বাংলাদেশে প্রতীকবরাদ্দের ক্ষমতা ও প্রক্রিয়া Representation of the People Order (RPO), 1972 এবং সংশ্লিষ্ট বিধি–নির্দেশনায় নির্ধারিত; চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ইসির, তবে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা–সমতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক—আইন বিশেষজ্ঞরা এমন মত দিচ্ছেন।
সারজিস আলম বলেন, এনসিপি আগামীর সংসদে ‘নির্ণায়কের ভূমিকা’ নিতে চায়—“কয়েকটি সিটের জন্য দর–কষাকষির জোট নয়, নীতিগত ঐকমত্য হলে জোট ভাবা যেতে পারে।” তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা–স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন, দুর্নীতিবিরোধী গণ–আন্দোলন—এসবই এনসিপির অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংগঠনিক দিক থেকে নভেম্বরের মধ্যে জেলা–উপজেলা–ইউনিয়ন–ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের লক্ষ্যও জানান।
পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) প্রসঙ্গে এনসিপির অবস্থান “উচ্চকক্ষে পিআর, নিম্নকক্ষে নয়”—বলেন সারজিস আলম। সাম্প্রতিক জনপরিসরে বাইক্যামেরাল–পিআর নিয়ে জোরালো বিতর্কে এক পক্ষ উচ্চকক্ষে পিআরকে ভোট–শেয়ারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ অস্থিরতার ঝুঁকি উল্লেখ করছে; গবেষণা–বিশ্লেষণেও উচ্চকক্ষে সীমিত আকারে পিআর–এর যুক্তি উঠে এসেছে।
এনসিপি নেতা জানান, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা ও দৃশ্যমান বিচার–পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে যেতে চায় দলটি। কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কপি দলগুলোকে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা—স্বাক্ষরের পর বাস্তবায়ন–রোডম্যাপ নির্ধারণে কমিশন সুপারিশ দেবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
The Daily Star / Dhaka Tribune / Prothom Alo (EN) — এনসিপিকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রতীক বেছে নিতে ইসির চিঠি; সময়মতো না জানালে ইসির নিজ সিদ্ধান্তে প্রতীক বরাদ্দ। RTV (EN) — ১১৫ প্রতীকের তালিকা প্রকাশ; ‘শাপলা’ তালিকায় নেই (সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫)।
The Business Standard — এনসিপির আইনি যুক্তি: জাতীয় প্রতীকের উপাদান থেকে প্রতীক বরাদ্দের নজির উল্লেখ করে ‘শাপলা’ বরাদ্দের আবেদন।
RPO, 1972 (Election Commission portal, PDF) — প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো।
The Daily Star — জুলাই সনদ: চূড়ান্ত কপি পাঠানো, ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষর—বাস্তবায়ন সুপারিশ স্বাক্ষর–পরে।
The Daily Star / TBS (opinion & reports) — উচ্চকক্ষে পিআর–এর যৌক্তিকতা বনাম ঝুঁকি—সাম্প্রতিক বিতর্ক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |