প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার ৭ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিজাম উদ্দিন এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাদের গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ও কারাদণ্ডের আদেশ ছিল। মঙ্গলবার অর্থ আত্মসাতের ১০টি মামলায় রাসেলকে এবং দুটি মামলায় শামীমা নাসরিনকে সাজা পরোয়ানা মূলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আদালত চত্বরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে তার ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে পুনরায় পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
বাংলার বাণিজ্যিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ১৯৮০-র দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতির ছোঁয়া লাগে বাংলাদেশে। তবে ২০১৮ সালের পর দেশে ‘ই-কমার্স’ খাতের ব্যাপক উত্থান ঘটে। ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ডিসকাউন্ট’ অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ২০২১ সালে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় ২০২৫ সালে ই-কমার্স খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে ইভ্যালি মামলার এই রায় ও গ্রেফতার মূলত আইনের শাসন ও গ্রাহকদের অধিকার পুনরুদ্ধারের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যেকোনো আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
ইভ্যালির এই পতন বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের জন্য যেমন একটি শিক্ষা, তেমনি হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের জন্য ন্যায়বিচারের আশা। মোহাম্মদ রাসেলের অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে একে ‘আইনি প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কৌশল’ হিসেবে দেখছেন, আবার চিকিৎসকরা তার উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যার কথা বলছেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাদের এই কারাবরণ ই-কমার্স খাতে আস্থার সংকট কাটাতে সাহায্য করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র: যুগান্তর, ডিবি পুলিশ রেকর্ড, ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল রিপোর্ট এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর আদালত ডায়েরি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |