প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষার্থীরা আগামি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “গত বছর বই ছাপানোর কাজে কিছু অনিয়ম ও অভিযোগ উঠেছিল। তাই যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও মুদ্রণ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের এবারের কাজ দেওয়া হবে না। নতুনভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে এবং চলতি মাসেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।”
এছাড়া, তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ইউনিসেফের সাথে কমিশন কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র (Competitive Bidding) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয় ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে। পরে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক চাপে এ কার্যক্রমে ভিন্নতা আসে।
১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে বই পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে বই বিতরণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
২০১০ সালের ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয়ভাবে বই উৎসবের সূচনা করেন, যেখানে প্রায় ৩ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে একযোগে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হয়।
২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বই বিতরণ কার্যক্রমে কিছু বিলম্ব হলেও অনলাইন ক্লাসের সাথে সমন্বয় করে সরকার শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছে দেয়।
বছরের পর বছর পাঠ্যপুস্তক বিতরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্যও শোনা যায়।
২০১৩ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, “সরকার বই ছাপানোর নামে সিন্ডিকেটকে সুযোগ দিয়েছে।”
২০১৭ সালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় সংসদে জানান, “পাঠ্যবইয়ের মানোন্নয়নে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”
২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ঘোষণা দেন, “প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরের প্রথম দিনেই বই হাতে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রতিশ্রুতি।”
এই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বই মুদ্রণ ও বিতরণের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ্যপুস্তক সময়মতো পৌঁছে দেওয়া শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য নয়, বরং এটি সরকারের দক্ষতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, সময়মতো বই না পেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ক্ষতি হয় এবং পরিবারগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে বছরে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা দেশের শিক্ষা বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নীতিনির্ধারকদের মত, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলে বইয়ের মান আরও উন্নত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির প্রতিবেদন (২০২২–২০২৪)।
সংসদীয় অধিবেশন আর্কাইভ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
বিভিন্ন সংবাদপত্র: দ্য ডেইলি স্টার, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন (২০১০–২০২৫)।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |