| বঙ্গাব্দ

৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ বিএনপির সম্মেলন, স্থগিত ফজলুর রহমান বাইরে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-09-2025 ইং
  • 3259252 বার পঠিত
৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ বিএনপির সম্মেলন, স্থগিত ফজলুর রহমান বাইরে
ছবির ক্যাপশন: ফজলুর রহমান

৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ বিএনপির সম্মেলন, ব্যানারে নেই মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দীর্ঘ বিরতির পর সম্মেলন

দীর্ঘ ৯ বছর পর শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকাল ১১টায় জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সম্মেলন ঘিরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জেলা বিএনপির আলোচিত নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান

ব্যানারে নেই ফজলুর রহমান

সম্মেলনের ব্যানার, পোস্টার ও দাওয়াতপত্রে নেই তার নাম। অতিথি তালিকায়ও স্থান পাননি তিনি। এর কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মন্তব্য করায় বিএনপি তাকে তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশে রেখেছে। এর ফলে তিনি সবধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত আছেন।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাকিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফেসবুকে ক্ষোভ ও আবেদন

সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দলীয় স্থগিতাদেশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“আমাকে বলে আমি বাতিল হয়ে গেছি, কিশোরগঞ্জ সম্মেলনে যেতে পারব না। কে সহ্য করতে পারে এগুলা? আমিও তো মানুষ। এ দলের জন্য জেল খেটেছি, নির্বাসনে থেকেছি, খালেদা জিয়ার নামে ৩০০ বক্তব্য দিয়েছি—যেটি বিশ্ব রেকর্ড।”

তিনি আরও বলেন:

“আমার নেত্রী এখন সুস্থ, তিনি জানেন না আমাকে এভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তারেক রহমানের নামে আমি যে বক্তৃতা করি, বিএনপি নেতাদের চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজির বিরুদ্ধে আমি যে কথা বলি—এটা কেউ বলে না। একটা কথার জন্য তিন মাসের জন্য আমাকে স্থগিত করা হয়েছে। অনুরোধ করছি সম্মেলনের আগে এ আদেশ প্রত্যাহার করা হোক।”

ত্যাগের স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন:

  • “২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া আমাকে কিশোরগঞ্জে বিএনপির আহ্বায়ক করেছিলেন।”

  • “আমি আট বছর জেলা নেতৃত্ব দিয়েছি।”

  • “হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায়ও সম্মেলনে হাজির হয়েছিলাম।”

তার ক্ষোভের সুরে:

“কয়েকদিন পর সম্মেলন হবে, হাজার হাজার নেতা-কর্মী আসবে, আর আমি ঢাকায় বসে থাকব? যে বিএনপির জন্য মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, সেই দলের কেউ বলতে পারে না ফজলু আসুক। আমার ৭৮ বছর বয়স, প্রতিটি মিনিট স্বর্ণের দামে বিক্রি হয়, আমাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা অন্যায়।”

বিশ্লেষণ

১. সম্মেলনের তাৎপর্য – ৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া সম্মেলন জেলা বিএনপিকে নতুন নেতৃত্ব দেবে। তবে ফজলুর রহমানকে বাইরে রাখায় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
২. দলীয় শৃঙ্খলা বনাম অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ – বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় তাকে স্থগিত করা হলেও, তিনি এখনও দলের প্রতি অনুগত থাকার কথা বলছেন।
৩. মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের রাজনীতি – একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়া বিএনপির জন্য ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
৪. রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ – তিনি নিজেই বলেছেন, “যদি স্থগিতাদেশ তুলে না নেয়, তবে ভিন্ন পথ খুঁজতে হবে।” ফলে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।


সূত্র

  1. যুগান্তর পত্রিকা, কিশোরগঞ্জ সম্মেলন সংক্রান্ত প্রতিবেদন

  2. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (২০২৫)

  3. উইকিপিডিয়া: History of Bangladesh (1971–present)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency