১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর আমিরে জামায়াত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এখন চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই বিরোধী ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন আমিরে জামায়াত। তিনি বলেন, "জামায়াত সংস্কারের পক্ষে, দেশবাসীও সংস্কার চায়। আমরা এমন একটি বিচার বিভাগ চাই যা হবে পূর্ণ স্বাধীন, তবে সেখানে জবাবদিহির জায়গাও থাকতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বিশ্বের সকল শান্তিকামী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। এছাড়া গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র না হয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়ার আহ্বান জানান এবং আসন্ন নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জোটবদ্ধ নির্বাচনের সংস্কৃতি বেশ পুরনো। ১৯৩৭ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল এক ঐতিহাসিক বাঁক। তৎকালীন সময়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর জোটবদ্ধ হওয়া প্রমাণ করেছিল যে, বৃহত্তর স্বার্থে জোট গঠন এদেশের রাজনীতির মজ্জাগত।
১৯৭১ পরবর্তী সময়ে ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জোটের প্রভাব ছিল অপরিসীম। ২০২৪-২৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের গঠন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের যে চেতনা, তারই আধুনিক প্রকাশ ঘটছে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার ও স্বাধীনতার দাবিতে।
গুগল এনালাইসিস এবং সাম্প্রতিক ট্রেন্ড বলছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মহলের নজর অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জামায়াতের এই বৈঠক প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা হয়ে গেলে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি আসবে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তথ্যসূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রেস রিলিজ (১২ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) মিশনের অফিসিয়াল আপডেট। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ইতিহাসের ডিজিটাল আর্কাইভ (১৯৩৭-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |