| বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুমোদন দিল ইসি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-08-2025 ইং
  • 4288852 বার পঠিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুমোদন দিল ইসি
ছবির ক্যাপশন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ: অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


ইসির সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। যেকোনো সময় এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে বুধবার (২৭ আগস্ট) ইসি সূত্রে জানা গেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনাররা একাধিক বৈঠকে খসড়া রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেন। ইসির এক সদস্য জানান, “আগামী ফেব্রুয়ারিতেই ভোট আয়োজনের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রমজান শুরুর আগেই নির্বাচন শেষ করতে চাই আমরা।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
এরপর ৮ আগস্ট ২০২৪ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ভাষণে ঘোষণা দেন যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

অন্তর্বর্তী সরকার থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, যেন আগামী রমজান মাসের আগেই ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

ইসি কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এক বক্তব্যে বলেন:
“নির্বাচনের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা আমাদের অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করতে পারব। খুব শিগগিরই সেটি প্রকাশ করা হবে।”

ইসির কর্মকর্তারা আরও জানান, খসড়ায় ভোটগ্রহণের তারিখ, মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রতীক বরাদ্দ, প্রচারণার সময়সীমা এবং ফলাফল ঘোষণার সম্ভাব্য দিনসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সরকারের ধারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত বিষয়।

  • ১৯৯১ সালে পুনঃপ্রবর্তিত সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীদলগুলোর আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের মার্চে ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়, যাতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

  • ওই ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন হয়।

  • ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে। এরপর থেকে নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক সংকট জটিল হয়।

  • ২০২৪ সালের আন্দোলন ও হাসিনা সরকারের পতনের পর পুনরায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা কার্যত “তত্ত্বাবধায়ক মডেল”-এর কাছাকাছি একটি রাজনৈতিক কাঠামো।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

এই রোডম্যাপ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

  • বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই বলছে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি “নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয়” ঘটতে পারে।

  • তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে: নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দলীয় নিবন্ধন বাতিলের বিতর্ক (আওয়ামী লীগ), এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা।

  • অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনূস বারবার বলেছেন, “এবারের নির্বাচন হবে জনগণের—একটি স্বচ্ছ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।”


সূত্র

  1. নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বৈঠক সংক্রান্ত তথ্য, ২০২৫ (ডেস্ক রিপোর্ট)

  2. “March to Dhaka” আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন – আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম: Al Jazeera, Reuters

  3. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় ও ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত দলিলপত্র

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency