| বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে উত্তপ্ত সমালোচনা: অন্তর্বর্তী সরকারে ‘শেখ হাসিনার ছায়া’ দেখছেন আনু মুহাম্মদ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-08-2025 ইং
  • 4433075 বার পঠিত
জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে উত্তপ্ত সমালোচনা: অন্তর্বর্তী সরকারে ‘শেখ হাসিনার ছায়া’ দেখছেন আনু মুহাম্মদ
ছবির ক্যাপশন: আনু মুহাম্মদ

উল্টো যাত্রা’ বন্ধ না হলে চলবে দ্রোহযাত্রা: অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করলেন আনু মুহাম্মদ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রমের ওপর তীব্র সমালোচনা করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ৫ আগস্টের 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান'-এর এক বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই আলোচনায় তিনি বলেন—“সরকার এখনো শেখ হাসিনার ছায়াতেই পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এভাবে যদি উল্টো যাত্রা চালু রাখা হয়, তাহলে জনগণের দ্রোহযাত্রাও অব্যাহত থাকবে।”

অভ্যুত্থানের চেতনার বিচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ

‘অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে কেমন বিশ্ববিদ্যালয় পেলাম?’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সেখানেই আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, “চব্বিশের আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্য দূর করতে। অথচ আজও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মব ন্যায়বিচার চলছে।”

তিনি বলেন, “শুধু ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে, কাঠামোগত কিছুই বদলায়নি। দেশের মানুষের প্রতি বিভাজন সৃষ্টি করায় শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল। কিন্তু তারই নেয়া চট্টগ্রাম বন্দর প্রকল্প আজ বাস্তবায়ন করতে চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।”

সরকারের নীতিতে ‘ভারত ও মার্কিন ছায়া’

সরকারের ভারতবিরোধী বক্তব্যকে “বাগাড়ম্বর” আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “বিগত চুক্তিগুলো প্রকাশ না করলে তাদের বিরোধিতার বক্তব্য কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য হবে?” তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, সরকার মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে, অথচ জনগণের মৌলিক অধিকার উপেক্ষা করছে।

দাবি ও পরামর্শ: শহীদদের স্বীকৃতি, মব সহিংসতা বন্ধের আহ্বান

আনু মুহাম্মদ বলেন, “চব্বিশের শহীদদের স্বীকৃতি দিতে হবে। আহতদের পুনর্বাসন ও নিহতদের পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। মব সন্ত্রাস, পাইকারি মামলা, এবং গোপন আন্তর্জাতিক চুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বারবার আমাদের বিজয় হারিয়ে যায়। এবার যেন তা না হয়, সেটাই আমাদের সংগ্রামের মূল উদ্দেশ্য।”

শ্রোতাদের উপস্থিতি ও বক্তব্য

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা ক্বাফী রতন, সীমা দত্ত, ড. সামিনা লুৎফা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আলোচনা শেষে শহীদ মিনার থেকে একটি প্রতিবাদী ‘দ্রোহযাত্রা’ বের হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

বিশ্লেষণ: ১৯৭১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান বারবার দেখা গেছে—১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। কিন্তু প্রায় প্রতিবারই আন্দোলনের রূপরেখা ভিন্ন কিছু হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর হাতে।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট জয়ের পর মুসলিম লীগ সরকারকে হটানো, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নতুন রাষ্ট্র গঠন এবং ২০০৭-এর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যেমন প্রত্যাশা ও বাস্তবতায় ফারাক ছিল—ঠিক তেমনি প্রশ্ন উঠছে বর্তমান সরকারের নিয়ত নিয়েও।

সূত্র:

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency