| বঙ্গাব্দ

লেথাল উইপন ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: আইজিপির জবানবন্দিতে রাষ্ট্রীয় দমন নীতি ফাঁস

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-07-2025 ইং
  • 4452452 বার পঠিত
লেথাল উইপন ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: আইজিপির জবানবন্দিতে রাষ্ট্রীয় দমন নীতি ফাঁস
ছবির ক্যাপশন: আইজিপির জবানবন্দিতে রাষ্ট্রীয় দমন নীতি ফাঁস

লেথাল উইপন ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল’ — আইজিপির জবানবন্দিতে বিস্ফোরক তথ্য

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২৯ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

সূত্র:

  1. আদালতে আইজিপির দেওয়া জবানবন্দির নথি, ২৯ জুলাই ২০২৫

  2. “জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রতিবেদন ২০২৪”, মানবাধিকার কমিশন

  3. “বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ (১৯৭১–২০২৫)”, রাষ্ট্রবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (২০২৫)

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই হেলিকপ্টার থেকে গুলি, মারণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন — দাবি সাবেক আইজিপির

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন,

“জুলাই বিপ্লব দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো, মারণাস্ত্র ব্যবহার ও ব্লক রেইড—সবই ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।”

তিনি এই তথ্য আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তুলে ধরেন, যা মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) প্রকাশ্যে আসে।

প্রতিদিন রাত ৯টায় ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বৈঠক’: কারা ছিলেন সেই কোর টিমে?

সাবেক আইজিপি বলেন,

“২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে প্রতিদিন রাত ৯টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাসায় বৈঠক হতো।”

উপস্থিত থাকতেন—

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

  • এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম

  • ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ

  • র‌্যাব ডিজি (তৎকালীন)

  • আনসার ডিজি

  • এনটিএমসি প্রধান জিয়াউল আহসান

  • স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব

এই বৈঠকেই “ছয়জন আন্দোলন সমন্বয়ককে আটক ও মানসিক নির্যাতনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

হারুন অর রশীদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাকতেন “জনাব”’ — কারণ জানালেন সাবেক আইজিপি

জবানবন্দিতে মামুন বলেন,

“হারুন অর রশীদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জনাব’ বলে সম্বোধন করতেন, কারণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাকে সবচেয়ে কার্যকর মনে করা হতো।”


হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো: যুদ্ধকৌশল নাকি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস?

সাবেক আইজিপি আরও বলেন,

“র‌্যাব ডিজি হারুনের নেতৃত্বে একটি গোপন পরিকল্পনায় হেলিকপ্টার থেকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।”

এই সিদ্ধান্ত ‘প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক অনুমোদন পেয়েছে’—এমনটাই দাবি করেন তিনি।

লেথাল উইপনের ‘উৎসাহদাতারা’ কারা?

আইজিপি মামুনের মতে, লেথাল উইপন ব্যবহারে যারা বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন:

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান — নির্দেশ দেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত

  • ওবায়দুল কাদের (সাবেক সেতুমন্ত্রী) — রাজনৈতিক পরামর্শ ও সমর্থন দেন

  • ডিবির হারুন অর রশীদ ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব — সরাসরি ব্যবহার নিশ্চিত করেন

১৯৭১–২০২৫: আন্দোলন দমন নাকি রাষ্ট্রীয় দমননীতির ধারাবাহিকতা?

সময়কালঘটনাপ্রবাহসহিংসতা ও দমন কৌশল
১৯৭৫বাকশালের সময় সংবাদপত্র নিষিদ্ধ, গুমআইএসআই স্টাইলে নজরদারি
১৯৯০এরশাদবিরোধী আন্দোলনরাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, গুম
২০০৭–০৮সেনা-সমর্থিত সরকারসাংবাদিক নির্যাতন, আটক
২০১৩–১৪হেফাজত-বিএনপি আন্দোলনশাপলা চত্বরে রাতের গুলি
২০২৪জুলাই অভ্যুত্থানহেলিকপ্টার থেকে গুলি, লেথাল উইপন, ব্লক রেইড
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া: “এটি গণতন্ত্রের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে,

“এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সহিংসতা গণতন্ত্রের মূলে আঘাত হানে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিককে রক্ষা করা, ধ্বংস করা নয়।”

বিশ্লেষণ: রাষ্ট্রীয় দমন যন্ত্রের অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি কি বিচারের পথ খুলবে?

রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার দায় নির্ধারণে একটি মোড় ঘোরানো প্রমাণ। তবে প্রশ্ন হলো—এই জবানবন্দির ভিত্তিতে কি উচ্চপদস্থদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে?

ড. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন—

“আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী যন্ত্রে পরিণত হলে, তা গণতন্ত্র নয়—রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। এই স্বীকারোক্তি যদি রাজনৈতিক বিচারের পথ না করে, তবে জাতি আরেকটি কলঙ্ক নিয়ে চলবে।”

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency