প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
উৎস: যৌথ বিবৃতি ও সংবাদ বিশ্লেষণ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর এক বছর পূর্ণ হয়েছে। গণতন্ত্র, সাম্য ও বৈষম্যহীনতার প্রত্যাশায় উৎসর্গীকৃত এ আন্দোলনের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তুলেছেন দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ২২ জন তরুণ নাগরিক।
শনিবার (২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে আসার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে উদাসীনতা পরিহার করে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় চলে গেছে।
ব্যানার ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।
সরকার জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত দেশে মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৭৪ জন (সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, ২৫ জুন ২০২৫)। এছাড়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের প্রকাশ্য তৎপরতা ও কিছু স্থানে মাজার ভাঙার ঘটনায় সরকারের নীরবতা জঙ্গিবাদকে উসকে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।
প্রথম আলো পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই ছিল সর্বোচ্চ—কমপক্ষে ২৮৪ জন। কিন্তু বর্তমান সরকারের সংস্কার সংলাপে শ্রমিক ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় অনুপস্থিত। বিবৃতিতে এই গোষ্ঠীর আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা থাকার পরও তাদের অগ্রাধিকার না পাওয়াকে চরম হতাশাজনক বলা হয়।
১. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে।
৩. সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নির্বাচনের আগে এবং পরে নিশ্চিত করতে হবে।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সব ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
নূর আলম (অর্থনীতিবিদ ও লেখক), রুবায়াত মান্নান রাফি (বাংলাদেশ ডায়ালগ), রেং ইয়ং ম্রো (আদিবাসী ছাত্রনেতা), মিনহাজ আমান (গণমাধ্যম গবেষক), মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী (কলাম লেখক), সাদিক মাহবুব ইসলাম (সাংবাদিক), লিটন বড়ুয়া (রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানী), ফাহমিদা ফাইজা, জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম, আব্দুর রশিদ জিতুসহ ২২ জন বিশিষ্ট তরুণ নাগরিক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল। কিন্তু ইতিহাসে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিপ্লব-পরবর্তী সময়েই চেতনার বিচ্যুতি ঘটেছে। এবারও সেই আশঙ্কা দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জুলাই আন্দোলনের এক বছর পর দেশের তরুণ নাগরিক সমাজ আবারও দৃঢ়ভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার এই বার্তা গ্রহণ করে বাস্তব সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
মেটা টাইটেল: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এক বছর: তরুণদের চার দাবি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মেটা ডেসক্রিপশন: জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছরে তরুণদের উদ্বেগ ও চার দফা দাবি—নির্বাচন, নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও জাতীয় ঐক্যের অনুরোধ।
সূত্র:
The Daily Star, ২৫ জুন ২০২৫
দৈনিক প্রথম আলো, ১৯ জুলাই ২০২৫
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
বাংলাদেশ প্রতিদিন নিজস্ব সংবাদ বিশ্লেষণ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |