তারেক রহমানের বক্তব্য: রোহিঙ্গা করিডর, সংস্কার ও শ্রমজীবীদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডর দেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোকে কিছুই জানায়নি। এমন একটি সিদ্ধান্ত দেশের জনগণ নয়, বরং বিদেশিদের স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এমন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অবশ্যই একটি নির্বাচিত সংসদের কাছ থেকেই আসা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশিদের নয়, সরকারের উচিত সবার আগে দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।
বৃহস্পতিবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত জাতীয় শ্রমিকদলের এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক সুস্পষ্ট বার্তা।
তিনি বলেন, “দেশে সংস্কার নিয়ে শোরগোল চলছে। কিন্তু সেই সংস্কারের কর্মযজ্ঞে শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর কোথায়? শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির প্রাণ, অথচ তাদের কথা কেউ শোনে না।” তারেক রহমান উল্লেখ করেন, নির্বাচিত সরকার ও সংসদ থাকলেই কেবল জনগণের কথা শোনা সম্ভব। কারণ, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন।
তিনি সতর্ক করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অংশ এখন সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছে। এ বিষয়ে তার স্পষ্ট মত, “সংস্কার এবং নির্বাচন – উভয়ই প্রয়োজন। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি অনির্দিষ্টকালের জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখা যৌক্তিক নয়। কারণ, এতে করে স্বৈরাচারী মনোভাব মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। জনগণের উপর একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে দেশে ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতার সুপ্ত বাসনা যেন বাংলাদেশকে আবার স্বৈরতন্ত্রের পথে ঠেলে না দেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
সমাবেশে শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “১৮ কোটি মানুষের দেশের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি মানুষই শ্রমজীবী। তাদের পরিশ্রমেই অর্থনীতি সচল থাকে, শিল্প গড়ে ওঠে, দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ে। অথচ এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে অধিকারবঞ্চিত করে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
তিনি শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়নে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং সেই লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর মতে, জনগণের জন্য ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদার বাংলাদেশ গঠনে এখনই সময় বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়ার।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |