বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক:
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিঁড়ি থেকে হত্যা মামলার এক আসামি পালিয়ে গেছেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, বেলা সাড়ে ১১টার পর।
পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম শরিফুল। তিনি খিলগাঁও থানার একটি হত্যা মামলার আসামি।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকায় শরিফুলকে আদালতে হাজির করা হয়।
বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে বিচারিক কার্যক্রম শেষে চারজন আসামিকে আদালতের গারদ খানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মো. শহিদুল্লাহ।
সেই সময় আচমকা শরিফুল শহিদুল্লাহকে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আদালতের মূল সিঁড়ি ব্যবহার করে দৌড়ে বাইরে চলে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। ঢাকার আদালত এলাকা ও আশেপাশের রাস্তাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাঈন উদ্দিন চৌধুরী।
এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বরের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে, যখন ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের চোখে স্প্রে মেরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি পালিয়ে গিয়েছিল।
তারা ছিলেন—
আবু সিদ্দিক সোহেল
মইনুল হাসান শামীম
দুজনই আনসারুল্লাহ বাংলাটিম সদস্য এবং প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
সে সময় নিরাপত্তার চরম ঘাটতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং পুরো আইনপ্রয়োগকারী ব্যবস্থাকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়।
একাধিক গুরুতর অপরাধের আসামি যখন আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়, তখন তা দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন সৃষ্টি করে।
বিশেষ করে আদালতের ভেতর ও আশপাশে নিরাপত্তার অভাব, পুলিশের প্রতিক্রিয়ার ধীরগতি এবং আসামিদের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকাই বারবার এমন ঘটনার সুযোগ তৈরি করছে বলে মত প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
পালিয়ে যাওয়া শরিফুলের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানার একটি হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল এবং এটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ছিল।
পুলিশ এখনও তার বিস্তারিত পরিচয়, ঠিকানা ও সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি।
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আসামি পালানোর ঘটনা পুনরায় প্রমাণ করে, দেশের আদালত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখনো গুরুতর ঘাটতি রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো,
আদালতের প্রবেশ ও প্রস্থানপথে স্ক্যানার ও সিসিটিভি নিশ্চিত করা,
এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |