প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ১ আগস্ট ২০২৫
উৎস: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রেস রিলিজ ও বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিবৃতি
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর সম্ভাব্য ৩৫% পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে রেহাই পাওয়া নিঃসন্দেহে দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় অর্জন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখা—এটি কেবল অর্থনীতির প্রশ্ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার অংশও হয়ে উঠেছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের ভাষায়, "এটি আমাদের পোশাক খাত ও এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের জন্য ভালো খবর। আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছি।"
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ২০% শুল্কে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা—এটি এমন এক মুহূর্তে এসেছে, যখন ভারত, ফিলিপাইন বা পাকিস্তানের মতো অনেক দেশ তাদের চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ১৯৫০ দশকের পূর্ব পাকিস্তান আমল থেকেই জটিল ও বহুমাত্রিক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুরু থেকেই মিশ্র ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, যা তখন সমালোচিত হয়।
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ওয়াশিংটন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পায়। জিএসপি সুবিধা, শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার—সবকিছুর ভিত্তি হয় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক ইন্টারেস্ট এবং বাংলাদেশের শ্রমবাজার।
২০১৩ সালে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের সময় রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে GSP সুবিধা প্রত্যাহার করে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে লেগেছিল প্রায় এক দশক।
২০২৫ সালের এই অর্জন তাই শুধুই অর্থনীতির নয়—এটি কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রীয় কৌশলের প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭০টি দেশের জন্য নতুন পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেন। তবে বাংলাদেশ সেই তালিকা থেকে কার্যত ‘উত্তীর্ণ’ হয়। বাংলাদেশ কৌশলে মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে সম্মত হয়—যা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলোকে খুশি করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করে।
মোটা দাগে যেটি হয়েছেঃ
বাংলাদেশ ২০% শুল্কে রপ্তানি করতে পারবে
ভারত ২৫% শুল্কের মুখে পড়েছে
চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়াও ২০%-এর আশেপাশেই
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে—“প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের শুল্ক নির্ধারিত হবে”
এই ঘটনাকে শুধু তাৎক্ষণিক জয় হিসেবে না দেখে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে দেখতে হবে। কারণ—
বিশ্ব অর্থনীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি এখন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত
পাল্টা শুল্কের হুমকি এখন কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি নতুন অস্ত্র
শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ, মানবাধিকার ইস্যুতে পশ্চিমা চাপ ভবিষ্যতেও আসবে
ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার অঙ্গীকার করেছি, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উপকারী এবং মার্কিন কৃষি রাজ্যগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তেও সহায়ক হবে।”
তাঁর মতে, বাংলাদেশ হিসাব করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—all balanced থাকে।
১৯৮০s: জুট, হাড়-চামড়া প্রধান রপ্তানি
১৯৯০s: তৈরি পোশাক খাতের উত্থান
২০১০s: শ্রম অধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ
২০২0s: জলবায়ু, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক রাজনীতি হয়ে উঠেছে রপ্তানির অংশ
| দেশ | শুল্কহার (২০২৫) |
|---|---|
| বাংলাদেশ | ২০% |
| ভারত | ২৫% |
| ভিয়েতনাম | ১৯% |
| শ্রীলঙ্কা | ২০% |
| পাকিস্তান | ২০% |
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড পলিসি অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ (জুলাই ৩১, ২০২৫)
খলিলুর রহমানের বিবৃতি (বাংলাদেশ নিরাপত্তা উপদেষ্টা)
বিশ্বব্যাংকের সাউথ এশিয়া ট্রেড অ্যানালাইসিস রিপোর্ট (২০২৪)
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |