| বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংশোধনে উত্তপ্ত সংলাপ: উচ্চকক্ষ ও নিয়োগ ইস্যুতে মতানৈক্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 5984063 বার পঠিত
সংবিধান সংশোধনে উত্তপ্ত সংলাপ: উচ্চকক্ষ ও নিয়োগ ইস্যুতে মতানৈক্য
ছবির ক্যাপশন: সংবিধান সংশোধনে উত্তপ্ত সংলাপ

শিরোনাম: সংবিধান সংশোধন নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক সংলাপ: উচ্চকক্ষ ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মতানৈক্য তুঙ্গে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ১ আগস্ট ২০২৫
উৎস: যুগান্তর

উচ্চকক্ষ গঠনে ‘পিআর পদ্ধতি’ নিয়ে বিএনপির আপত্তি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে। ১০০ আসনের এই উচ্চকক্ষ গঠিত হবে ‘প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন’ (PR) পদ্ধতিতে, অর্থাৎ দলগুলোর ভোট শতাংশ অনুযায়ী সদস্য মনোনয়ন করা হবে। বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো এই প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলছে, উচ্চকক্ষে প্রতিনিধি নির্ধারণ হতে হবে সংসদের নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে, ভোটের ভিত্তিতে নয়।

এদিকে, সিপিবি, বাসদ, ও অন্যান্য বামপন্থী দল এই উচ্চকক্ষের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উচ্চকক্ষ অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যয়বহুল।

পিএসসি, দুদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে সংবিধানে বিধান সংযোজন

সংশোধিত সংবিধানে সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক (CAG), এবং ন্যায়পাল (Ombudsman) নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বিএনপিসহ পাঁচটি দল এতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে।

বিএনপির বক্তব্য, এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন ও সংসদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। কেবল সাংবিধানিক বিধান নয়, প্রয়োগযোগ্য স্বচ্ছ আইনি কাঠামো প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতির হাতে নতুন নিয়োগক্ষমতা

প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনে রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগক্ষমতা। এসব নিয়োগের মধ্যে রয়েছে:

  • তিন বাহিনীর প্রধান

  • ডিজিএফআই ও এনএসআই প্রধান

  • মানবাধিকার কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

  • বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান

  • অ্যাটর্নি জেনারেল, তথ্য কমিশন ইত্যাদি

এখন আর এসব নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের প্রয়োজন হবে না, এমন সুপারিশ এসেছে খসড়া সংশোধনে।

সংলাপে উত্তেজনা: রাজনৈতিক নেতাদের বাকবিতণ্ডা

পিআর পদ্ধতির আলোচনা চলাকালে এনসিপির নেতা জাবেদ রাসিনের উদ্দেশে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার “২৩ সালে কোথায় ছিলেন” কটাক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি ক্ষমা চাইলেও আলোচনায় তীব্রতা অব্যাহত থাকে।


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও মৌলিক অধিকার: ঐকমত্য হয়নি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। বিএনপি বলেছে, সংবিধানে একটি ‘মধ্যবর্তী বিধান’ যুক্ত করা যেতে পারে। মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় আধুনিক অধিকার যেমন—ইন্টারনেট অ্যাক্সেস—সম্পর্কে প্রস্তাব উঠলেও তা নিয়েও ঐকমত্য হয়নি।

দ্বিতীয় দফায় ১৯টি বিষয়ে ডিসেন্টসহ ঐকমত্য

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আস্থা ভোট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি সংযোজন

  • রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি

  • উচ্চকক্ষ গঠন

  • নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি

  • সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ

  • মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানো

  • পিএসসি, দুদক, সিএজি ও ন্যায়পাল নিয়োগ

  • রাষ্ট্রের মূলনীতি

এছাড়া দ্বিতীয় দফায় যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়েছে সেগুলোকে “জুলাই জাতীয় সনদ”-এ পরিণত করতে চায় কমিশন।

বিরোধীদের কণ্ঠস্বর

সালাহউদ্দিন আহমেদ (বিএনপি):
“আমরাই প্রথম উচ্চকক্ষের ধারণা দিয়েছি, তবে তা হওয়া উচিত নির্বাচিত আসনের ভিত্তিতে। আমরা ক্ষমতা ভারসাম্যের পক্ষে।”

রুহিন হোসেন প্রিন্স (সিপিবি):
“উচ্চকক্ষ প্রস্তাব উচ্চাভিলাষী। এটি প্রত্যাখ্যান করছি।”

শাহাদাত হোসেন সেলিম (বিএলডিপি):
“এই উচ্চকক্ষ ভবিষ্যৎ সরকারের হাত-পা বেঁধে রাখবে।”

আখতার হোসেন (এনসিপি):
“পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষে পরিশীলিত প্রতিনিধিত্ব হবে। এতে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ থাকবে।”

মূলনীতি নিয়ে বাম দলগুলোর সংলাপ বর্জন

সিপিবি, বাসদ, গণফোরাম, এবং অন্যান্য বাম দল সংলাপ থেকে বেরিয়ে আসে রাষ্ট্রের মূলনীতি পরিবর্তনের প্রস্তাব দেখে। তারা বলছে, “চার মূলনীতি হলো মুক্তিযুদ্ধের সনদ। এটি বদলানোর অর্থ হলো মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা।”

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency