| বঙ্গাব্দ

কারাগার পরিদর্শন নিয়ে মুখ খুললেন ধর্ম উপদেষ্টা, ‘সব ছিল সরকারি, গোপন কিছু নয়’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-07-2025 ইং
  • 4464486 বার পঠিত
কারাগার পরিদর্শন নিয়ে মুখ খুললেন ধর্ম উপদেষ্টা, ‘সব ছিল সরকারি, গোপন কিছু নয়’
ছবির ক্যাপশন: ধর্ম উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম কারাগার পরিদর্শন নিয়ে বিতর্কে মুখ খুললেন ধর্ম উপদেষ্টা: ‘গোপন কিছু ছিল না, অপপ্রচার দুঃখজনক’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫
সূত্র: ফেসবুক পোস্ট, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

সরকারি নির্দেশে কারাগার পরিদর্শন: ধর্ম উপদেষ্টার ব্যাখ্যা

সম্প্রতি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনের একটি ছবি ও গুজব নিয়ে আলোচনার মুখে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে তিনি জানান, এ সফর ছিল পুরোপুরি সরকারি এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশে অনুষ্ঠিত।

তিনি লিখেন,

“এটি কোনো গোপন বা লুকোচুরি সফর ছিল না। আইজি প্রিজন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে সফরটি আয়োজিত হয়েছে।”

সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল?

ধর্ম উপদেষ্টা জানান,

“এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ধর্মীয় বই-পুস্তক সরবরাহ এবং নামাজের স্থান নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন।”

তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৭০ হাজার বন্দিকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা একটি বৃহৎ মানবিক উদ্যোগ।

ভিআইপি ওয়ার্ড পরিদর্শন ও ছবি বিতর্ক

ড. খালিদ হোসেন বলেন,

“আমি রান্নাঘর, হাসপাতাল, শিশু ওয়ার্ড, মহিলা ও পুরুষ সেল, এমনকি ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত পরিদর্শন করেছি। ভিআইপি ওয়ার্ডে ছিলাম মাত্র ২–৩ মিনিট।”

তিনি দাবি করেন, সফরের সময় তার সঙ্গে কোনো মিডিয়া বা ক্যামেরা ছিল না
তবে কারাগারের এক কর্মকর্তার তোলা কিছু ছবি পরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাইরে পাঠানো হয়েছে, যা ভিত্তিহীন গুজব ও বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে।

“পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র”: উপদেষ্টার অভিযোগ

ড. হোসেন তার পোস্টে বলেন,

“এই অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে পরাজিত কায়েমি সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র। তারা চায় সরকার ও জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে। কিন্তু তারা সফল হবে না।”

তিনি আরও লেখেন,

“আমাদের পথ ন্যায়, আমাদের লক্ষ্য শান্তি ও কল্যাণ। আমরা কোনো বিভ্রান্তি নয়, বরং সত্য ও গঠনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।”

প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট: কারা ব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা প্রয়াস

বাংলাদেশে ১৯৯০-এর দশকে কিছু কারাগারে কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও, তা কখনো কেন্দ্রীয় নীতির অংশ হয়নি।
২০২৫ সালে এই পরিকল্পনা প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার একটি কারাগারভিত্তিক কাঠামো গঠনের ঘোষণা

ইতিপূর্বে ভারতের তিহার জেলে কোরআন পাঠ ও যোগব্যায়াম প্রচলিত হলেও, বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে এই প্রথম।
এই উদ্যোগকে মানবিক ও পুনর্বাসনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা গেলেও রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও উঠে আসছে।

উপসংহার

ড. খালিদ হোসেনের এই বিবৃতি শুধু একটি সফরের ব্যাখ্যা নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগকে অপপ্রচার থেকে রক্ষা করার প্রয়াস
তিনি এই ঘটনাকে ধর্মীয়, নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তার এই অবস্থান সরকারের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও গঠনমূলক উদ্যোগকে সামনে আনতে চেয়েছে—যা সামগ্রিকভাবে একটি ইতিবাচক রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency