৩৮ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি আজও বিশ্ব ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর দীর্ঘ ফুটবল জীবনে আমরা পেয়েছি অসংখ্য ট্রফি, শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট, আর হৃদয় কাঁপানো মুহূর্ত। তবে তার এই রূপকথার মতো ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বিবর্ণ অধ্যায়? নিঃসন্দেহে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)-তে কাটানো সময়।
মেসি কখনোই বার্সা ছাড়তে চাননি।
সেই শহরে গড়ে উঠেছিল তাঁর পরিবার, জীবন, বন্ধুত্ব, সুখস্মৃতি—সেটিই ছিল তাঁর আপন নীড়। কিন্তু ২০২১ সালে ক্লাবের ভয়াবহ আর্থিক সংকটে বার্সেলোনার পক্ষে তার সঙ্গে নতুন চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। ক্লাব সভাপতির বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত “কাঁদতে কাঁদতেই” তিনি বলেছিলেন বিদায়।
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় মেসি যোগ দিলেন পিএসজিতে—যেন এক অজানা এবং অনাকাঙ্খিত যাত্রার সূচনা।
প্যারিসে নাম লেখানোর সময় বন্ধু নেইমার ও পরিচিত মুখের আশায় মেসি ভেবেছিলেন, মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল উল্টো।
কোভিড, অনুশীলনের অভাব, প্যারিসের যানজট, ঠিকঠাক থাকার জায়গা না পাওয়া—সবকিছু একসঙ্গে তাকে করে তুলেছিল অস্বস্তিকর।
এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলেছিলেন:
“পিএসজিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব অখুশি ছিলাম। উপভোগই করতে পারিনি।”
দুই মৌসুমে গোল সংখ্যা কম, পারফরম্যান্সও ছিল মাঝারি মানের। বার্সেলোনার সেই মেসিকে যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন। দর্শক-সমর্থকরাও ছিলেন বিরক্ত। একপর্যায়ে নিজ দলের মাঠেই তাঁকে দুয়ো দেওয়া হয়েছিল!
এই সময়েই কাতার বিশ্বকাপ (২০২২) এল। মেসি সেখানে ছিলেন দুর্দান্ত—আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ।
ফলাফল? পিএসজি ভক্তরা অবাক:
“এই মেসি আমাদের ক্লাবের জার্সিতে কোথায় ছিলেন?”
অন্যদিকে, ক্লাবের ভেতরেও চলছিল অস্থিরতা। নেইমার-মেসি-এমবাপ্পের মতো তিন সুপারস্টার মাঠে একসঙ্গে থাকলেও, রক্ষণে কেউই চেষ্টা করতেন না। দলে ভারসাম্য তৈরি হয়নি।
অনেকেই মেসিকে দেখেছেন শুধুই একটি মার্কেটিং চুক্তির অংশ হিসেবে। খেলোয়াড় হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে তার গুরুত্ব ছিল বেশি।
শেষ পর্যন্ত চুক্তি নবায়নের আগ্রহ হারায় দুই পক্ষই। মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে চলে যান—যেখানে তিনি পেয়েছেন প্রশান্ত পরিবেশ, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ, এবং মুক্তভাবে খেলার আনন্দ।
পিএসজিও চুক্তি শেষ করে বাজেট হালকা করে তরুণ প্রতিভায় বিনিয়োগ শুরু করে।
ফলাফল? অবশেষে ২০২4 সালে পিএসজি তাদের বহু প্রতীক্ষিত UEFA চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ঘরে তোলে।
রবিবারের ক্লাব বিশ্বকাপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি ও পিএসজি।
পিএসজির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়:
“ শুভ জন্মদিন মেসি। রবিবার দেখা হবে।”
এই বার্তা যেন দুই প্রাক্তন প্রেমিকের নীরব সম্মতি—আমরা একে অপরের জন্য ঠিক উপযুক্ত ছিলাম না।
কেউ কেউ একে ‘বিদ্বেষের ম্যাচ’ বললেও বাস্তবে এটি হতে যাচ্ছে এক ভদ্র, পরিপক্ক পুনর্মিলন।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিএসজি-মেসি সম্পর্ক ছিল এক প্রকার 'রিবাউন্ড রোমান্স'—যেখানে দুটি পক্ষই হৃদয়ভাঙার পর ভুলভাবে একত্রিত হয়, এবং শেষ পর্যন্ত বুঝে ফেলে:
এই সম্পর্ক তাদের কারোর জন্যই ছিল না।
ফুটবল বিশ্লেষক গিলেম বালাগে বলেছিলেন:
“পিএসজি ছিল মেসির জন্য আবেগহীন জায়গা। সেখান থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল তার দ্বিতীয় জীবনের শুরু।”
মেসির পিএসজি অধ্যায় ছিল হতাশার, কিন্তু সেটিই হয়তো তাকে নতুন করে চেনার সুযোগ দিয়েছিল। ইন্টার মায়ামিতে তিনি পেয়েছেন আনন্দ, পরিবার আর স্বাধীনতা—আর পিএসজিও খুঁজে পেয়েছে নতুন ভারসাম্য।
তাই তো বলা যায়, এটি ছিল ভুল সম্পর্কের সঠিক সমাপ্তি।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |