গাজিয়াবাদে ‘ভুয়া দূতাবাস’ চালানোর অভিযোগে হর্ষ বর্ধন জৈন গ্রেপ্তার: উদ্ধার বিলাসবহুল গাড়ি, জাল পাসপোর্ট ও কোটি টাকার সম্পদ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সূত্র: বিবিসি বাংলা, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, ইকোনমিক টাইমস
গাজিয়াবাদ, ভারত –
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ভাড়া বাড়িতে ‘ওয়েস্টার্কটিকা’র নামে একটি ভুয়া কূটনৈতিক মিশন পরিচালনার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী হর্ষ বর্ধন জৈনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। অভিযানে তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নথিপত্র, বিলাসবহুল গাড়ি এবং কোটি টাকার নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হর্ষ বর্ধন দীর্ঘদিন ধরে 'ওয়েস্টার্কটিকা', 'সাবোরগা', 'পলভিয়া' ও 'লোডোনিয়া' নামের স্বীকৃতিহীন কাল্পনিক দেশের ‘রাষ্ট্রদূত’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। এসব দেশের কনসালেট সেজে তিনি চালাতেন ভুয়া দূতাবাস।
এসটিএফের নয়ডা ইউনিটের এসএসপি সুশীল ঘুলে বলেন, “জৈন বিভিন্ন মাইক্রোনেশনের নামে নিজেকে রাষ্ট্রদূত পরিচয় দিতেন। তিনি বাড়িতে কূটনৈতিক পতাকা উত্তোলন করতেন, বিদেশি নম্বরপ্লেটসহ বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং নিজেকে আন্তর্জাতিক বৈঠকের অংশ হিসেবে তুলে ধরতেন।”
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে যে সমস্ত সামগ্রী জব্দ করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে:
₹৪৪.৭ লাখ ভারতীয় মুদ্রা ও ₹৩০ লাখ সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা
৪টি বিলাসবহুল গাড়ি (অডি, মার্সিডিজ)
২০টি ভুয়া কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট
১২টি জাল পাসপোর্ট
৩৪টি বিভিন্ন দেশের স্ট্যাম্প
১২টি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি
একটি ল্যাপটপ, মোবাইল এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র
অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইন-শৃঙ্খলা) অমিতাভ যশ জানান, “বিদেশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হর্ষ বর্ধন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। একই সঙ্গে তিনি হাওয়ালা চক্র পরিচালনায়ও জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
তদন্তে উঠে এসেছে, হর্ষ বর্ধন জৈন ২০১৬ সাল থেকে এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। প্রথমে বাবার বাড়ি থেকে কার্যক্রম চালালেও পাঁচ মাস আগে তিনি গাজিয়াবাদের KB-35 নামক একটি বাড়ি মাসিক ₹১.৮ লাখে ভাড়া নিয়ে তা 'দূতাবাস'-এ রূপান্তর করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাড়ির বাইরে বিদেশি পতাকা ও বিলাসবহুল গাড়ি থাকায় তারা ধরে নিয়েছিলেন সেখানে কোনো আসল কূটনীতিক বসবাস করছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০১১ সালেও হর্ষ বর্ধন অবৈধ স্যাটেলাইট ফোন রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবারও আদালতে তোলা হলে তাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—এই প্রতারণার পেছনে কি কোনও আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছিল? তদন্ত চলছে এই চক্রে অন্য কেউ জড়িত কি না, কিংবা এই ধরনের আরও ভুয়া দূতাবাস ভারতের অন্যত্র চালু রয়েছে কি না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভারতের অভ্যন্তরে কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করতে পারে না। এটি সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
ওয়েস্টার্কটিকা, সাবোরগা, পলভিয়া, লোডোনিয়া—এই দেশগুলো মূলত স্বীকৃতিহীন বা কাল্পনিক রাষ্ট্র। বিশ্বে এই জাতীয় মাইক্রোনেশন তৈরি করে প্রতারণা, কর ফাঁকি, অর্থ পাচার এবং পরিচয় গোপনের মতো নানা অপরাধ সংঘটিত হয়। হর্ষ বর্ধনের কৌশল ছিল সেই সুযোগ নিয়ে লোকজনের কাছে নিজেদের ‘ডিপ্লোম্যাট’ হিসেবে তুলে ধরা।
সংক্ষিপ্ত মন্তব্য:
এই ঘটনায় ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, মাইক্রোনেশন কেন্দ্রিক এমন প্রতারণা বিরল হলেও প্রযুক্তির অপব্যবহারে এর পরিসর বাড়ছে।
আপনি কী মনে করেন—কোন ধরণের আইন প্রণয়ন বা জনসচেতনতা প্রয়োজন এমন প্রতারণা প্রতিরোধে? মন্তব্য করুন নিচে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সূত্র: বিবিসি বাংলা, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টাইমস, হিন্দুস্তান টাইমস, ইকোনমিক টাইমস
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |