প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো জাতি আজ শোকে স্তব্ধ।
কোমলমতি শিশুদের মৃত্যু, গুরুতর দগ্ধতা এবং আতঙ্কের এই বাস্তবতা এখন সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছাপ রেখে গেছে।
এই দুর্ঘটনার পর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান চালনার যৌক্তিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক।
এবার সেই বিতর্কে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও যুক্ত হলেন নৌ পরিবহণ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনার বিষয়টি এখন গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।”
তিনি বলেন,
“এটি কোনো একক ঘটনা নয়, বরং একটি বড় শিক্ষা। জনবহুল এলাকায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো ঝুঁকিপূর্ণ।”
নৌ উপদেষ্টা এসময় আরও বলেন,
“এ ধরনের দুর্ঘটনার পেছনে দুটি সাধারণ কারণ থাকে—পাইলটের ভুল (Pilot Error) কিংবা কারিগরি ত্রুটি। যদিও এসব প্রশিক্ষণ জেট অনেক পুরোনো, তবে অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতি সাধারণত নিয়মিত আপডেট করা হয়।”
তবে চূড়ান্ত কারণ জানার জন্য ব্ল্যাকবক্স বিশ্লেষণের অপেক্ষায় থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।
এই দুর্ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাদের অনেকের শরীরে ৭০% বা তার বেশি অংশ পুড়ে গেছে এবং চিকিৎসকরা জটিল পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা শুরু করেছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান,
“সিঙ্গাপুর থেকে একটি মেডিকেল টিম ঢাকায় আসছে। প্রয়োজনে কিছু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানে পাঠানো হতে পারে।”
ঘটনার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষ রক্তদান, প্রার্থনা ও সান্তনার বার্তা দিচ্ছেন।
অভিনেতা শাকিব খান ও অভিনেত্রী চমক নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপধারীদের হাসপাতালে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।
ক্যাম্পাসে থাকা একজন শিক্ষার্থী বলেন,
“বিমান বিধ্বস্তের সময় শুধু আগুন নয়, আমাদের কান ফাটানো আর্তচিৎকারে চারদিক ভারি হয়ে গিয়েছিল। শিশুরা জানতেই পারেনি সেটাই তাদের জীবনের শেষ দিন।”
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জাতীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে—
কেন স্কুল-কলেজের পাশে প্রশিক্ষণ বিমান চালানো হচ্ছে?
কেন উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এমন দুর্ঘটনা রোধ করা যায়নি?
জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে কম উচ্চতায় ফ্লাইট অপারেশন কতটা যুক্তিসংগত?
বিশ্লেষকদের মতে, এখন সময় এসেছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নের। অন্যথায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |