প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, রাত ১০:১৫
তথ্যসূত্র: NDTV, Dawn News, Human Rights Watch, Pakistan Tribune
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে এক যুগলকে ‘সম্মান রক্ষার’ নামে গুলি করে হত্যার একটি নির্মম ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাটি ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে সংঘটিত হলেও ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হওয়ায় তা জনসমক্ষে আসে। নিহত যুগল ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘অনার কিলিং’-এর অভিযোগের মুখে পড়ে।
ভিডিওতে মুখ ঢেকে রাখা কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি ওই যুগলকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করতে দেখা যায়। গুলি করার মুহূর্তে কোনো রকম দ্বিধা বা হুঁশিয়ারি ছিল না—একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতোই ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা ছিল তরুণ দম্পতি, যারা সম্প্রতি পরিবারকে না জানিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি ঘটনাটিকে “সামাজিক মূল্যবোধ ও মানব মর্যাদার লঙ্ঘন” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)–এ এক পোস্টে লিখেছেন,
“এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“যারা রাষ্ট্রের মর্যাদা চ্যালেঞ্জ করবে, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”
বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, ভিডিওর সূত্র ধরে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন, ঘটনাস্থল শনাক্ত করে দায়ীদের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে।
পাকিস্তানে প্রতি বছর শত শত নারী ও পুরুষ ‘অনার কিলিং’-এর শিকার হন। ২০২৩ সালের Human Rights Commission of Pakistan (HRCP)–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ২০২২ সালেই দেশটিতে ৬২৯টি অনার কিলিং–এর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
মূল কারণসমূহ:
প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: নারীর ইচ্ছামতো বিয়ে বা সম্পর্ককে পরিবার ‘অপমান’ হিসেবে দেখে।
পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা: নারীর স্বাধীনতা বা ভালোবাসাকে সম্মানহানিকর ভাবা হয়।
আইনের দুর্বল প্রয়োগ: পরিবারভিত্তিক হত্যা হওয়ায় অপরাধীরা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায়।
ক্ষীণ সামাজিক প্রতিরোধ: অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণও এ ধরনের হত্যার বিরোধিতা করে না।
২০১৬ সালে পাকিস্তান পার্লামেন্টে “অনার কিলিং”-বিরোধী আইন পাস করে, যেখানে হত্যাকারীকে পারিবারিক মীমাংসা বা দয়ার ভিত্তিতে মাফ করা যাবে না বলে বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে, তদন্ত ও সাক্ষ্য সংগ্রহে দুর্বলতা এবং বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বহু অপরাধী শাস্তি পায় না।
Human Rights Watch এবং Amnesty International–এর দাবি,
“এই ভিডিও কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা ও নারীর স্বাধীনতার চরম ব্যর্থতার প্রতীক।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার ধরন | ভালোবেসে বিয়ে করা দম্পতিকে গুলি করে হত্যা (অনার কিলিং) |
| সময় | ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে (ভিডিও ভাইরাল হয় ২০ জুলাই) |
| বর্তমান অবস্থা | একজন আটক, বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান |
| মামলার ধারা | সন্ত্রাসবিরোধী আইন |
| মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান | সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস |
| সামাজিক প্রতিক্রিয়া | দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও শোক |
NDTV – Pakistan Honour Killing Video Sparks Outrage
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |