আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
তাইওয়ান নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বেসামরিক নিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করেছে। ‘হান কুয়াং’ বার্ষিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অনুশীলনে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের সময় নাগরিকদের করণীয় চর্চা করানো হয়।
বৃহস্পতিবার মহড়ার সবচেয়ে জোরালো অংশটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানী তাইপেই-তে, যেখানে এক ঘণ্টারও কম সময়ের জন্য গোটা শহর কার্যত থমকে গিয়েছিল। সড়কে চলন্ত গাড়ি থেমে যায়, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়—সবই অনুশীলনের অংশ হিসেবে।
এই মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল—চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন বা আকাশপথে হামলার সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে তাইওয়ানের জনগণ কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করা। এটি ছিল শহরভিত্তিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা।
শহরে বাজানো হয় বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন, যার পরে বাসিন্দারা তাদের ঘরে বা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। চালকদের চলন্ত যান থামিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। স্কুল, মন্দির, সাবওয়ে স্টেশন ও হাইওয়ে পর্যন্ত ফাঁকা করে দেওয়া হয়।
মহড়ার অংশ হিসেবে আরও অনুশীলন করা হয়:
গণহারে শহর খালি করা
আহতদের উদ্ধারে মেডিকেল ইউনিট সক্রিয়করণ
জরুরি খাদ্য ও পানি বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন
সাইবার হামলার পরিস্থিতির অনুকরণে জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই নিজেই এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।
লাই সম্প্রতি চীনের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বেইজিং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে উল্লেখ করে, যদিও লাই বলেন, তিনি কেবল তাইওয়ানের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডে ফ্যাক্টো দূতাবাস ‘আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ তাইওয়ান’-এর প্রধান রেমন্ড গ্রিন-ও মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এই অংশগ্রহণ তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এই মহড়াটি শুধু বৃহস্পতিবারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিনই বিভিন্ন শহরে আধা ঘণ্টা করে বিমান হামলার সতর্কতা বাজানো হয়। নির্ধারিত এলাকায় মানুষজনকে ঘরে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা অমান্য করলে জরিমানা ধার্য করা হয়।
দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা হয়
যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়
উদ্ধার কর্মীদের জন্য রাস্তা ফাঁকা রাখা হয়
স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়
তাইওয়ানে এই মহড়াকে ঘিরে জনমত বিভক্ত:
অনেকেই মনে করছেন, এটি চীনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অংশ।
আবার কেউ কেউ বলছেন, এই মহড়া জনমনে অকারণে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা চাই শান্তি, কিন্তু চুপচাপ বসে থাকাও সম্ভব নয়। তাই প্রস্তুতি জরুরি।”
আরেকজন দোকান মালিক বলেন, “প্রতিদিন আধাঘণ্টা বন্ধ রেখে ব্যবসা চালানো কঠিন। তবে দেশের স্বার্থে যদি দরকার পড়ে, মানতেই হবে।”
চীন তাইওয়ানকে বরাবরই তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড দাবি করে, যদিও তাইওয়ান নিজেদের একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালনা করে।
২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট লাই নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চীনের সাথে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। চীন একাধিকবার বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করে তাইওয়ানের আশেপাশে মহড়া চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করেছেন যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানে হামলা চালানোর সামরিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
তবে এ নিয়ে তাইওয়ানের জনগণের মাঝে দ্বিমত রয়েছে।
এক জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশের বেশি তাইওয়ানবাসী মনে করেন—আগামী পাঁচ বছরে চীন হামলা চালাবে না। এই জরিপটি পরিচালনা করেছে তাইওয়ানের সরকারঘনিষ্ঠ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএনডিএসআর (National Defense and Security Research Institute)।
এ ধরণের মহড়া মূলত তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মরক্ষার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিত্রদের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বার্তা দেয়—তাইওয়ান প্রস্তুত এবং আত্মরক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মহড়ার বার্তা কেবল তাইওয়ানবাসীর জন্য নয়, বরং চীনের সামরিক নেতৃত্ব, মার্কিন প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যেই দেওয়া।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |