বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পালাবদলে একটি প্রশ্ন ক্রমাগতই সামনে আসছে—শেখ হাসিনার পতনের পেছনে কে বা কারা? বিদেশি চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা—সবই আলোচনায় এসেছে। তবে মাঠপর্যায়ের পরিকল্পনায় যেসব মুখ দৃশ্যমান, তাদের বাইরেও একটি শেডো স্ট্র্যাটেজি পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ছাত্র মাহফুজ আবদুল্লাহ ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের পিছনের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তানায়ক। বাংলা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদনে তাকে “ইন্টেলেকচুয়াল তরুণ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যিনি প্রকাশ্যে না এলেও আন্দোলনের ভাষা, কাঠামো ও সমন্বয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।
তিনি ছিলেন কোটা আন্দোলনের সময়ের মূল দিকনির্দেশকদের একজন, যদিও সরাসরি নেতৃত্বে ছিলেন না। আন্দোলনের কিছু মুখ যেমন নাহিদ, হাসনাত কিংবা সার্জিছ গণমাধ্যমে পরিচিত হলেও মূল পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন মাহফুজ—এমন দাবিই করেছেন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
ডিবি পুলিশের হাতে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়, এমনকি নাহিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও থামিয়ে রাখতে পারেনি আন্দোলনকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে একটি বড় কারণ ছিল—প্রকৃত কোর কমান্ড কোনো একক দৃশ্যমান নেতার উপর নির্ভরশীল ছিল না। ফলে র্যাডিক্যাল ডিসরাপশনেও আন্দোলনের গতিপথ পাল্টায়নি।
অনেকের মতে, “বাংলা ব্লকেড” শব্দটি আন্দোলনের সাংগঠনিক ভাষা হিসেবে প্রথম চালু করেন মাহফুজ আবদুল্লাহ। এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং একটি আন্দোলনভিত্তিক কৌশলগত ভাষা তৈরি করে। ভাষা ও শব্দচয়ন দিয়েই মাহফুজ বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলেন—বাম, ইসলামপন্থী, সংখ্যালঘু, এমনকি নিরপেক্ষ ছাত্রসমাজকেও।
মাহফুজ ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন সদস্য হলেও, বর্তমান চিন্তায় তিনি পুরোপুরি হার্ডলাইনার নন। বরং, তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মূলত আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের বিপরীতে। তবে সেখানেও দেখা যায়, তার জ্ঞানে ধর্মীয় চেতনা এবং ইতিহাস-রাজনীতির গভীর পড়াশোনার সমন্বয়।
বাংলা ট্রিবিউন: “সমন্বয়কারীরা কে কোন দলের, গোয়েন্দা নজরে ‘ইন্টেলেকচুয়াল এক তরুণ’” – বাংলা ট্রিবিউন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট, ২০২৪
সাংবাদিকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |