মাসুদ কামালের মন্তব্য: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি 'মব সংস্কৃতি'
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে ‘মব সংস্কৃতি’। আমরা এক বছরে মব কালচারকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছি যেন এটি একটা বৈধ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি বলেন, “মব সংস্কৃতি” পূর্বে কখনও দেখা যায়নি, আর গত এক বছরে এটি এতটাই প্রচলিত হয়ে গেছে যে, এখন তা একটি স্বীকৃত কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাসুদ কামাল তার বক্তব্যে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মব সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে।" তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "মব ভায়োলেন্সের ক্ষেত্রে কোনো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না, এবং মব কালচারের এই বিপজ্জনক দিকটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর।"
তিনি আরো বলেন, “এখন একজন লোক রাস্তায় হাঁটছে, এবং চার-পাঁচজন ছেলেরা তাকে আক্রমণ করে, তাকে স্বৈরাচারের দোসর বলে গালি দিয়ে মারধর শুরু করে। পুলিশ পাশ দিয়ে চলে যায়, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি হস্তক্ষেপ করতে যায়, তারও মারধরের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।"
সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে লাঞ্ছিত এবং তার গলায় জুতার মালা পরানো ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যে ভিডিও দেখলাম, সেখানে পুলিশ সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। তারা মব থামানোর চেষ্টা করেনি।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশের যে প্রশিক্ষণ ছিল, সেটি কি তাদের থামাতে বলেছিল না? পুলিশ কেন কিছু করেনি? কারণ তারা ভাবল, ‘আমার জীবন কোথায়?’ এখন যদি পরিস্থিতি এমন থাকে, তাহলে আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কোথায়?”
মাসুদ কামাল বলেন, “এখন যারা এই মব সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করছে, তাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা জানা নেই। কিন্তু এটি স্পষ্ট যে, কোনো রাষ্ট্রে যদি আইনশৃঙ্খলা এমনভাবে ভেঙে যায়, তাহলে তার ফল ভয়াবহ হবে।”
মাসুদ কামাল মব সন্ত্রাসের দ্রুত বৃদ্ধি এবং পুলিশের নীরবতা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিপজ্জনক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “যত দ্রুত সম্ভব এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা না হলে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা আরো বিপদগ্রস্ত হতে পারে।”
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |