জামায়াত আমিরের বক্তব্যে রিজভীর তোপ: ইতিহাস বিকৃতি ও মুনাফেকির অভিযোগ
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণা ও ইতিহাস বিষয়ক নতুন বিতর্ক। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী উত্তাল সময় থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ—বাঙালির প্রতিটি লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট ত্যাগ ও নেতৃত্বের ইতিহাস। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই ইতিহাসকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জামায়াত নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "ইসলামের নামে ব্যবসা করা এবং মুনাফেকিই আপনাদের চরিত্র। কয়েকদিন পর হয়তো আপনারা বলবেন গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক; কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনো পিছপা হন না।"
সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক সমাবেশে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন যে, ১৯৭১ সালে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ 'উই রিভল্ট' ঘোষণা করেছিলেন। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রিজভী বলেন, "রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির ইতিহাস বিকৃত করছেন। স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি মেজর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিশা দিয়েছিলেন।"
রিজভী আরও যোগ করেন যে, অলি আহমদ নিজেও কখনো প্রথম ঘোষক হওয়ার দাবি করেননি, বরং সবসময় নিজেকে জিয়াউর রহমানের সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল, তখন থেকেই আদর্শিক সংঘাত বিদ্যমান ছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা আজও দেশের রাজনীতিতে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে আছে।
রিজভী ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের ইতিহাস টেনে বলেন, "এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও শেখ হাসিনা ও জামায়াত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর জেল-জুলুম সহ্য করেও সেই নির্বাচনে যাননি।" এই আপসহীন নেতৃত্বের কারণেই জনগণ বারবার খালেদা জিয়াকে রায় দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ এবং ২০২৬-এর বর্তমান সময়ে এসেও সেই আদর্শিক লড়াই নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
জামায়াতের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী উল্লেখ করে রিজভী বলেন, "ইসলাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে মুনাফেকিকে। যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তখন আপনারা সেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি; বরং তাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আজ কোন মুখে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলেন?"
অনুষ্ঠানে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং এবং মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলো থেকে ২০২৬-এর আধুনিক বাংলাদেশ—সবখানেই ইতিহাসের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে জোটবদ্ধ রাজনীতির সমীকরণে এ ধরণের আদর্শিক সংঘাত ও ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যুতে রিজভীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্কের শীতলতাকে নতুন করে স্পষ্ট করেছে।
সূত্র: যুগান্তর, বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর এবং রাজনৈতিক ইতিহাস সংক্রান্ত জাতীয় আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |