| বঙ্গাব্দ

Obaidul Quader ঘড়ি ও নারী বিতর্ক: এক মন্ত্রীর বিলাসবহুল জীবন ও দুর্নীতির গোপন চিত্র

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-06-2025 ইং
  • 4818120 বার পঠিত
Obaidul Quader ঘড়ি ও নারী বিতর্ক: এক মন্ত্রীর বিলাসবহুল জীবন ও দুর্নীতির গোপন চিত্র
ছবির ক্যাপশন: Obaidul Quader

ঘড়ি, গহনা, নারী: ওবায়দুল কাদেরের বিলাসবহুল রাজনীতি ও বিতর্ক ☀️

এক মন্ত্রী, হাজার কোটি টাকার ঘড়ি

ওবায়দুল কাদের নিজেই জানিয়েছিলেন, “১০ লাখ টাকার নিচে কোনো ঘড়ি আমি পরি না।” তাঁর ব্যক্তিগত ভাণ্ডারে নানা আন্তর্জাতিক নাম যেমন Rolex, Patek Philippe, Ulysse Nardin, Louis Vuitton—সবই বিদ্যমান। শুধুমাত্র ঘড়ির মূল্যই হয় শত কোটি টাকার উপরে।
এই বিলাসবহুল উপহার তিনি কিনতেন না; ঠিকাদাররা তাঁকে উপহার দিতেন, বিশেষত কন্ট্রাক্ট পাসের সময় এই ঘড়িগুলো পাওয়ার কথাই 'ওপেন সিক্রেট' ছিল মন্ত্রণালয়ে। 

আয় ও সম্পদের বিশৃঙ্খলা

২০১৯ সালে Netra News–এর অনুসন্ধানে জানা যায়, কাদেরের ডিক্লেয়ার্ড বা ঘোষিত বার্ষিক আয়ের সঙ্গে এই ঘড়ে-সুটের বিলাসবোধের কোনো মিল না থাকার প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মনিটরিং সংস্থা আহ্বান জানায়—TIB–র প্রশাসনিক নিয়ম (Toshakhana Rules, 1974) অনুযায়ী এসব মূল্যবান উপহারের হিসাব সরকারি হস্তক্ষেপে জমা দিতে হতো, যা হয়নি 

তারপরও ঘটনার পরদিন ভেবে দেখা যায়, Netra News–এর সাইট ব্লক হয়ে যায়—অবিচারবোধে সাংবাদিক-স্বাধীনতায় বড় ধাক্কা লাগে 

“সবই উপহার, দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই”

কাদের প্রকৃত খবরদাতাদের বাদ দিয়ে বললেন যে, তাঁর সব ঘড়ি পছন্দের মানুষ বা বিদেশে থাকা দলের কর্মীদের উপহার। এমনকি কয়েকটি স্বীকৃত ঘড়ির নাম দিয়ে বলেন—“যারা দিলেন, আমি নিয়েছি। এটা দুর্নীতি না, ভালোবাসার প্রকাশ।”

২০০৭–২০০৯: দুর্নীতির অভিযোগ ও মিথ্যাচার

২০০৭ সালে সামরিক-ব্যবস্থাসমর্থিত সরকারের সময় কাদেরসহ অনেকেই দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন। তবে কোর্টে প্রমাণ না পাওয়ায় ২০০৯ সালে অভিযোগ বেইমান হয়ে যায়

নারী ও গণসমাগমের প্রসঙ্গ

যুগান্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, কাদের নারীদের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ পোষণ করতেন—চিত্রনায়িকা, কলেজ ছাত্রী, নারী কর্মী যাঁরা প্রায়ই মন্ত্রণালয় ও জেলা সফরে তাঁর সংগে থাকতেন।
এই ধরনের ঘটনাগুলো ‘বিল পেতে চাইলে ঘড়ি বা নারী দাও’—এই রসিকতার অতীত প্রসঙ্গ তুলে আনা হয়েছিল

তত্ত্বাবধান ও তার অর্থনৈতিক হিসাব

  • Netra News (ডিসেম্বরে ২০১৯): বিলাসবহুল ঘড়ির ছবি, সিরিয়াল নম্বর পরে সনাক্ত—ইউলিস নাদার্ন, রোলেক্স, লুই ভিটন করে ঘড়ি দেখানো হয়

  • Transparency International Bangladesh: “Toshakhana rules লঙ্ঘন হয়েছে, তদন্ত জরুরি” 

  • Al Jazeera, BenarNews, OCCRP: প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে সাইট বন্ধের পিছনে ডিএসআই প্রভাব 

সারসংক্ষেপে—ঘটনাচক্র:

সময়ঘটনাব্যাখ্যা
২০০৭দুর্নীতির ৬ টি মামলাসামরিক-জনিত সরকারের সময় অভিযুক্ত, পরবর্তীতে বেনামায় অব্যাহতি
২০১৯“A wrist of luxury” রিপোর্টNetra News–এর অনুসন্ধানে ধরা হয় বেশ কয়েকটি শো-ঘড়ি
জানুয়ারি ২০২০কাদের মন্তব্যবলেন ঘড়িগুলো “নিজের নয়, উপহার”
২০২০সাইট ব্লক৩ দিনের মাথায় তৎপরতা
২০২৩Voice of Americaতিনি স্বীকার করেন ঘড়ি সংগ্রহ করেন দলীয় বন্ধুদের কাছ থেকে 
ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ
  1. আয়ের অনিয়ম: সরকারি বেতনের বিপরীতে বিলাসবহুল ঘড়ি–সুট–জুতা–চশমার অসামঞ্জস্য দেখে জনমনে গ্রহণযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়।

  2. নৈতিক দায়: Toshakhana রুলের অমান্য হওয়ায় এটাই নয়, সম্পদের উৎসগত প্রশ্ন থাকছে—যেখানে সাংবাদিকেরা ঘটনাগুলো তুলে আনছেন, সেখানেই সেন্সরশিপের ছায়া পড়ছে।

  3. নারীর প্রসঙ্গ: নারী–রাজনীতির মিশ্রণ নিয়ে জনমনে সংকোচ ও প্রশ্ন জন্মেছে—এটা কি পারদর্শিতা, নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার?

চূড়ান্ত প্রশ্ন

  • ঘড়ি, স্যুট ও নারীদের বাঁধন—এসব উপহার কাদের কি ‘প্রেম’, নাকি তারা তাঁর ‘ক্ষমতা’ পরিমাপক?

  • সরকারের নেতাদের জন্য Toshakhana রুল কেন কার্যকর হচ্ছে না? গণতন্ত্রে এটি কীভাবে ক্ষতি করে?

  • সাংবাদিক-স্বাধীনতা কোথায়? তথ্যপেতে গণতন্ত্র কতটুকু নিরাপদ?

    প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency