২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হতে এখনও প্রায় ১২ দিন বাকি, তবু বাংলাদেশ ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত দেশে এসেছে ২৯.৩৭ বিলিয়ন ডলার—যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২৭.৩ শতাংশ বেশি। জুন মাসের প্রথম ১৮ দিনেই এসেছে ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ দৈনিক গড়ে ১০.৩৩ কোটি ডলার।
এই অসাধারণ অর্জনের পেছনে কী কারণ কাজ করছে? ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে তো? চলুন ফিরে দেখি ইতিহাসের পাতা, মূল্যায়ন করি বর্তমান এবং ভাবি আগামী দিনের চিত্র।
জুন ২০২৫-এর প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ: ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার
প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে: ১০ কোটি ৩৩ লাখ ডলার
সম্ভাব্য মাসশেষের রেমিট্যান্স: ৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি
পুরো অর্থবছরের প্রত্যাশিত প্রবাস আয়: ৩০ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ অত্যন্ত ইতিবাচক। ধারাবাহিকতা থাকলে এ মাসেও মার্চের মতো ৩ বিলিয়ন ছুঁতে পারব।”
| দশক | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| ১৯৭০-৮০ | মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী প্রেরণের শুরু, সৌদি আরব-ভিত্তিক মাইগ্রেশন বুম |
| ১৯৯০-২০০০ | প্রবাসী আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন |
| ২০০৯-২০২০ | বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২% প্রণোদনা চালু |
| ২০২১-২০২৩ | হুন্ডির বিপক্ষে অভিযান, ডিজিটাল রেমিট্যান্স প্ল্যাটফর্ম চালু |
| ২০২৪-২৫ | সর্বোচ্চ প্রবাহের সম্ভাবনা: প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার |
প্রণোদনা হার বৃদ্ধি: সরকারের নগদ ইনসেনটিভ ২% থেকে বাড়িয়ে নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোর জন্য আরো বেশি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীল পরিস্থিতি আস্থা বাড়িয়েছে।
হুন্ডি প্রতিরোধ ও কঠোর নজরদারি: অবৈধ চ্যানেল সীমিত হওয়ায় বৈধ পথ জনপ্রিয় হচ্ছে।
ব্যাংকিং চ্যানেল ও মোবাইল রেমিট্যান্স সুবিধা: ডিজিটাল লেনদেন সহজ হওয়ায় প্রবাসীরা এখন সহজেই টাকা পাঠাতে পারছেন।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও ইরান বা ইসরায়েলে বাংলাদেশের কর্মীর সংখ্যা কম, তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই প্রভাব বাংলাদেশকেও ছুঁতে পারে।
ডলার সংকটে স্বস্তি: আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়ক
রিজার্ভে সহায়তা: বিদেশি ঋণ পরিশোধে সহায়তা
স্থানীয় বাজারে ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি
সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা
বিশেষজ্ঞ (ড. সাবিহা রহমান, কাল্পনিক অর্থনীতিবিদ) বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক আয়ের উৎসই হচ্ছে রেমিট্যান্স। এটি শুধু টাকার হিসাব নয়, প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি।”
সম্ভাবনা:
নতুন শ্রমবাজার (রোমানিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া)
মোবাইল রেমিট্যান্স অ্যাপের বিস্তার
নারী কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে বৈচিত্র্য
চ্যালেঞ্জ:
শ্রমবাজার সংকোচন (যুদ্ধ/অর্থনৈতিক মন্দার কারণে)
হুন্ডির নতুন ফর্ম/ডিজিটাল হুন্ডি
প্রণোদনা বন্ধ হলে প্রবাহ হ্রাসের আশঙ্কা
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রেমিট্যান্স প্রবাহ এক নতুন মোড় সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। এটি শুধু অর্থনীতির জয় নয়, প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন। সঠিক নীতিমালা ও বাজার ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে, আগামী দশকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।
১. ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ কত রেমিট্যান্স পেয়েছে?
➤ জুন পর্যন্ত প্রায় ২৯.৩৭ বিলিয়ন ডলার, আশা করা হচ্ছে ৩০ বিলিয়ন ছাড়াবে।
২. কবে বাংলাদেশ প্রথম ২০ বিলিয়নের রেমিট্যান্স পায়?
➤ ২০২০ সালে মহামারির মধ্যেও প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
৩. হুন্ডি চক্র কীভাবে রেমিট্যান্স কমায়?
➤ অবৈধ পথে টাকা গেলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে তা ধরা পড়ে না, ফলে সরকারি হিসাবে কমে যায়।
৪. রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকারের কী পদক্ষেপ রয়েছে?
➤ নগদ প্রণোদনা, হুন্ডি বিরোধী অভিযান, নতুন শ্রমবাজার অন্বেষণ।
৫. প্রবাসীরা কোন দেশের মাধ্যমে বেশি টাকা পাঠান?
➤ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |