| বঙ্গাব্দ

১১ দলীয় জোটে যাচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন: ২৬৮ আসনে একক লড়াইয়ের ঘোষণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-01-2026 ইং
  • 2549259 বার পঠিত
১১ দলীয় জোটে যাচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন: ২৬৮ আসনে একক লড়াইয়ের ঘোষণা
ছবির ক্যাপশন: ইসলামী আন্দোলন

আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং গুগল অ্যানালাইসিস ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করে বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর জন্য একটি বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন নিচে গুছিয়ে দেওয়া হলো।


একলা চলার পথে ইসলামী আন্দোলন: জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে না যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জোট ও পাল্টা জোটের সমীকরণ সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের গঠন থেকে শুরু করে ১৯৭০-এর নির্বাচন কিংবা ১৯৯১-এর গণতান্ত্রিক উত্তরণ—প্রতিটি পর্যায়েই রাজনৈতিক দলগুলোর মেরুকরণ দেখা গেছে। তবে ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র ফুটে উঠছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে না গিয়ে এককভাবে লড়াই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

পুরানা পল্টন থেকে নতুন বার্তা

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে তারা কোনো জোট বা আসন সমঝোতায় যাচ্ছে না। বরং ২৭০টি আসনের মধ্যে যে ২৬৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, "আমাদের প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন এবং কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।" এই ঘোষণার মাধ্যমে দলটি রাজপথের সমীকরণে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিলো।

১১ দলীয় জোটের আসন বিন্যাস ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান

গত ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় জামায়াত ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি এবং অন্যান্য দলগুলোর জন্য আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। জোটের তালিকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাম থাকলেও আজকের সংবাদ সম্মেলনের পর সেই জল্পনার অবসান ঘটলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ বা ১৯৪৭-এর দেশভাগ পরবর্তী সময়েও ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যেত। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী 'নতুন বাংলাদেশে' প্রতিটি দলই এখন নিজেদের একক জনসমর্থন যাচাই করতে চাইছে।

ইতিহাসের দর্পণে ২০২৬-এর নির্বাচন

১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের সংস্কার পরিক্রমা—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী ধারার দলগুলোর প্রভাব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক ভূমিকার চেয়ে আদর্শিক লড়াইয়ে এই দলগুলো সক্রিয় ছিল। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনটি অন্য সব নির্বাচনের চেয়ে আলাদা, কারণ এখানে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের পতনের পর একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ভোটের মাঠে এক নতুন ডাইমেনশন যোগ করবে। যেখানে বড় দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে লড়ছে, সেখানে ২৬৮ আসনে একক প্রার্থী দেওয়া দলটির আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ।


তথ্যসূত্র: ১. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় দপ্তর ও সংবাদ সম্মেলন নোট (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও রাজনৈতিক দলগুলোর আসন বণ্টন প্রতিবেদন (জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯০০-২০২৬ (ঐতিহাসিক ও ডিজিটাল আর্কাইভ বিশ্লেষণ)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency