দীর্ঘ ১৮ বছর পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা সম্পদ বিবরণী সংক্রান্ত মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
আজ ২২ জুন (রবিবার) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক আবুল কাশেম এই রায় ঘোষণা করেন।
৫ কোটি ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৭৩ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন
৮ কোটি ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন
মামলা করা হয়:
দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২), ২৭(১) ধারা
১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এর ৫(২) ধারা
জরুরি বিধিমালা ২০০৭ এর ১৫ ও ৫ ধারা
দণ্ডবিধি এর ১০৯ ধারায়
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯ এপ্রিল ২০০৭ | দুদক সহকারী পরিচালক মাহফুজা মামলাটি দায়ের করেন |
| ১৯ জুলাই ২০০৭ | তদন্ত কর্মকর্তা নুর জাহান অভিযোগপত্র দাখিল করেন |
| ২৯ আগস্ট ২০০৭ | আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন |
| ১৮ জুলাই ২০১২ | হাইকোর্টে দুলুর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা বাতিল |
| ২ নভেম্বর ২০১৫ | আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে, বিচার পুনরায় শুরু |
| ১৬ জুন ২০২৫ | যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য |
| ২২ জুন ২০২৫ | আদালতের রায়ে দুলু ও তার স্ত্রী খালাস পান |
দুলুর পক্ষে আইনজীবী বোরহান উদ্দিন জানান,
“মামলায় দুদক সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। সাক্ষীদের বক্তব্য ছিল অসংলগ্ন ও সন্দেহজনক। তাই আদালত যুক্তিতর্কে খালাসের সিদ্ধান্ত দেন।”
রায়ে বলা হয়—প্রমাণের ঘাটতি ও সাক্ষ্যের অপ্রামাণ্যতার ভিত্তিতে 'ব্রিটিশ আইনত পদ্ধতিতে সন্দেহের সুযোগে' আসামিদের খালাস দেওয়া হলো।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু:
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
সাবেক উপমন্ত্রী (তথ্য ও সাংস্কৃতিক)
নাটোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য
মামলাটি দায়ের হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়
দীর্ঘদিন মামলা চলমান থাকায় তার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রভাব পড়েছে বলে দাবি বিএনপির
বিচারকৃত দল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মামলাটিকে দুইভাবে দেখছেন:
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপি নেতাদের দমন নীতির অংশ
১৮ বছর পরে মামলার নিষ্পত্তি হওয়া বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার প্রতিফলন
দুদকের তদন্ত ও সাক্ষ্য সংগ্রহে ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট
খালাসের ফলে দুলুর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেতে পারে
বিএনপি এটি নির্দোষ প্রমাণের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রচার করতে পারে
একই ধরনের মামলায় বাকি নেতাদের জন্য আইনগত দৃষ্টান্ত হতে পারে
রাষ্ট্রপক্ষ যদি আপিল করে, মামলা পুনরায় আদালতে উঠতে পারে
রাজনৈতিক পক্ষগুলো রায় নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চালিয়ে যেতে পারে
১৮ বছর পর যে মামলার শুরু হয়েছিল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে—তা শেষ হলো আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির মাধ্যমে। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্য এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বস্তি নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক-আইনি সংস্কৃতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
Q1: দুলু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা কবে হয়?
→ ১৯ এপ্রিল ২০০৭
Q2: মামলা কিসের অভিযোগে দায়ের হয়েছিল?
→ সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে
Q3: মামলার রায় কবে ঘোষণা করা হয়?
→ ২২ জুন ২০২৫
Q4: আদালতের রায় কী ছিল?
→ দুজনই বেকসুর খালাস পেয়েছেন
Q5: রায়ে কী কারণে খালাস দেওয়া হয়েছে?
→ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থতা, সাক্ষ্যের অমিল ও সন্দেহের সুযোগে খালাস
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |