| বঙ্গাব্দ

নড়াইলের কালিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-04-2025 ইং
  • 4715671 বার পঠিত
নড়াইলের কালিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
ছবির ক্যাপশন: নড়াইলের কালিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

নড়াইলের কালিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ৩০

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে একজন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ফরিদ মোল্যা (৫৭) এবং তিনি আফতাব মোল্যার পক্ষের সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং পূর্বের সংঘর্ষ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনপুর গ্রামের মিলন মোল্যা ও আফতাব মোল্যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের কারণে এর আগেও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, এবং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ঈদের দিন থেকে গ্রামটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা একদিন পরেই সংঘর্ষে পরিণত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত: সানোয়ার মোল্যার ওপর হামলা

গত বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে মিলন মোল্যার পক্ষের সদস্য সানোয়ার মোল্যা একটি মামলায় নড়াইল আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আফতাব মোল্যার লোকজন তাকে মারধর করে। এই ঘটনার পর থেকেই গ্রামে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং পরদিন সন্ধ্যায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মিলন মোল্যার পক্ষের লোকেরা কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আফতাব মোল্যার বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আফতাব মোল্যার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ করতে বেরিয়ে আসে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ বেধে যায়, যার ফলে প্রায় ৩০ জন আহত হন এবং বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়।

নিহত ব্যক্তি: ফরিদ মোল্যার মৃত্যু

সংঘর্ষের পর আহতদের মধ্যে আফতাব মোল্যার পক্ষের ফরিদ মোল্যা (৫৭) গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। ফরিদ মোল্যার মৃত্যু সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের পর এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগ

এ বিষয়ে কালিয়া থানার ওসি মো. রাশিদুল ইসলাম ফরিদ মোল্যার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা এলাকায় রয়েছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। প্রতিপক্ষের বাড়ি ভাঙচুরসহ সহিংসতা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।" এছাড়া, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে সহিংসতা আরও বাড়তে না পারে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

আলাপ-আলোচনা ও সমাধান প্রয়োজন

এ ঘটনাটি নিঃসন্দেহে এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধ এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে এই সংঘর্ষের উদ্ভব হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, একাধিকবার নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি, যার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে চলে যায়। এখন এলাকাবাসীর মধ্যে শান্তি ফেরানোর জন্য সমঝোতার পথ খোঁজা জরুরি।

একদিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে, অন্যদিকে এলাকাবাসী তাদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ আশা করছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনকে একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আরও সহিংসতার ঘটনা না ঘটে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency