প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের বাকি আর মাত্র সপ্তাহখানেক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বিএনপি এবং তার জোট প্রার্থীদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের ‘অভিমানী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সারা দেশে ৬৫টির মতো আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৩৫-৪০ জন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ২০২৬ সালের নির্বাচনে ব্যালট যুদ্ধে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলের ভেতরে বিদ্রোহ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই কোনো নতুন বিষয় নয়। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভাজন দেখা গেছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও কৌশলগত কারণে নেতৃত্বের নানা বিন্যাস লক্ষ্য করা গেছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, তা আজ ২০২৬ সালে এসে এক সুশৃঙ্খল সংসদীয় নির্বাচনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে। তবে বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা দলীয় শৃঙ্খলার লড়াইকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিএনপি এবার ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিলেও ৬৫টি আসনে দলের নেতারাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে ২০টি আসনে জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য তারা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় ইতিমধ্যে ৭১ জন প্রভাবশালী নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন:
"যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৃণমূল শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের পক্ষেই থাকবে।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: এখানে জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং তরুণ দে। রুমিন ফারহানার পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা-১২: জোট প্রার্থী সাইফুল হকের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল আলম নীরব।
পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন হাসান মামুন।
হবিগঞ্জ-১: ড. রেজা কিবরিয়ার (ধানের শীষ) বিপরীতে লড়ছেন সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া।
বিদ্রোহীদের নিষ্ক্রিয় করতে বিএনপি প্রধান তারেক রহমান নিজেই মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন জেলা সফরে তিনি ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সরাসরি অংশগ্রহণ বিদ্রোহীদের জন্য বহিষ্কারের চেয়েও বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
রাজনীতির বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে নেতাদের বক্তব্যগুলো আজও ইতিহাসের মাইলফলক:
১৯৭১: "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।" — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৯০: "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।" — শহীদ নূর হোসেন।
২০২৬ (ফেব্রুয়ারি): "দলের দুর্দিনে যারা পাশে ছিল, ভোটাররা তাদের কথাই ভাবছে।" — ড. সাব্বীর আহমেদ (রাষ্ট্রবিজ্ঞানী)।
১৯০০ সাল থেকে যে জনপদ রাজপথের লড়াই দেখেছে, সেই বাংলাদেশের ভোটারদের মনস্তত্ত্ব ২০২৪-এর বিপ্লবের পর বদলে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থীর চেয়ে স্থানীয়ভাবে দুর্দিনে পাশে থাকা নেতাদের ভোটাররা বেশি প্রাধান্য দিতে পারেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৫৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হওয়ার নজিরও এখানে প্রাসঙ্গিক। বিএনপির এই ভোট ভাগাভাগি শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জন্য জয় সহজ করে দেয় কি না, তা নিয়ে খোদ বিএনপির ভেতরেই এখন বড় মাথাব্যথা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: কালবেলা, যুগান্তর ডিজিটাল আর্কাইভ, বিএনপি দপ্তর বিভাগ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে স্থানীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমীকরণের সাথে বাংলাদেশের ১২৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি মূলত নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য বনাম ব্যক্তিক জনপ্রিয়তার এক দ্বান্দ্বিক লড়াইকে ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |